Showing posts with label SPORTS. Show all posts
Showing posts with label SPORTS. Show all posts

Wednesday, December 27, 2017

টেস্ট-ওয়ানডেতে বছরের সর্বনিম্ন ইনিংস জিম্বাবুয়ের




চার দিনের টেস্ট সর্বশেষ মাঠে গড়িয়েছিল ১৯৭৩ সালে অকল্যান্ডে। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এ সংস্করণে চার দিনের ম্যাচ আবারও ফেরানো হবে কি না, তার একটা ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ চলছে পোর্ট এলিজাবেথে। যেখানে চার দিনের দিবা-রাত্রির টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছে জিম্বাবুয়ে। তবে জিম্বাবুয়ের জন্য এ ম্যাচটা শুধু মুখোমুখি হওয়া পর্যন্তই। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে সর্বনিম্ন দলটি লড়াই করা দূরে থাক, গড়েছে বছরের সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় দল। লড়াইটা যে তাই একপেশে হতে যাচ্ছে, সে কথা সবাই জানত। তাই বলে এতটা একপেশে! প্রথম দিনে ৭৮.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৯ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দল। জবাবে ৪ উইকেটে ৩০ রান নিয়ে আগের দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে কি জানত, দ্বিতীয় দিনে তাদের জন্য মড়ক অপেক্ষা করছে!
গ্রায়েম ক্রেমারের দল দ্বিতীয় দিনে বাকি ৬ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৩৮ রানে। সব মিলিয়ে ৬৮ রানে গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস। টেস্টে এ বছর এটাই সর্বনিম্ন দলীয় ইনিংস। এ বছর ওয়ানডেতেও সর্বনিম্ন দলীয় ইনিংসটা জিম্বাবুয়ের। গত ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে তাঁরা অলআউট হয়েছিল মাত্র ৫৪ রানে। মান-মর্যাদায় ক্রিকেটের সেরা দুই ফরম্যাটে এ দুই জোড়া লজ্জাই বলে দেয় জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট কোন পথে যাচ্ছে!
টেস্টে আপাতত সেই পথটা গিয়ে ঠেকেছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম সর্বনিম্ন দলীয় ইনিংসে। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছেন মূলত মরনে মরকেল। প্রোটিয়া এ পেসার টেস্টে সপ্তমবারের মতো এক ইনিংসে ৫ উইকেটের মুখ দেখলেন, যেটা কিনা গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনে ফেলেও প্রোটিয়ারা কিন্তু তিল পরিমাণ ছাড় দেয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে আবারও ব্যাটিংয়ে পাঠান ডি ভিলিয়ার্স। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের স্কোর ১ উইকেটে ৭৫। হাতে ৯ উইকেট রেখে দলটি তখনো ১৬৬ রানে পিছিয়ে। স্রোতের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের কেউ রুখে না দাঁড়ালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সম্ভবত দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামতে হবে না।


 ২০১৭ সালে টেস্টে সর্বনিম্ন পাঁচ ইনিংস
    দল
     ইনিংস
  প্রতিপক্ষ
 ভেন্যু/p>
জিম্বাবুয়ে
      ৬৮
দক্ষিণ আফ্রিকা
পোর্ট এলিজাবেথ
পাকিস্তান
      ৮১
ও.ইন্ডিজ
ব্রিজটাউন
বাংলাদেশ
      ৯০
দক্ষিণ আফ্রিকা
পচেফস্ট্রুম
শ্রীলঙ্কা
      ৯৬
পাকিস্তান
দুবাই
ভারত
      ১০৫
অস্ট্রেলিয়া
 পুনে

Sunday, December 24, 2017

কত বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশের এক চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক




বাবা মারা গেছেন...। বিষয়টি বোঝার বয়সও তখন হয়নি ছোট মেয়েটির। স্বামীকে হারিয়ে জীবনের উত্তাল সাগরে নাও ভাসিয়েছেন মা এনাতো মান্দ্রা। সহায়-সম্বল বলে কিছু নেই বলে ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজ নিলেন তিনি। আর যা-ই হোক, ছেলেমেয়েদের মুখে তো তুলে দিতে হবে দুমুঠো ভাত। টিকিয়ে রাখতে হবে তাদের মানুষ হওয়ার স্বপ্ন।

সেই ছোট মেয়েটি আজকের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। যার হাত ধরেই ভারতকে হারিয়ে আজ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। কত বাধা পাড়ি দিয়ে এসে নিজেকে একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তৈরি করা যায়, তা মারিয়ার জীবনগল্পের প্রতিটি প্যারাতে লেখা।

বাবা বীরেন্দ্র মারাকের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে হা করে তাকিয়ে থাকে মারিয়া। বাবার কোনো স্মৃতিই যে নেই তার। মা এনাতো মান্দ্রাই একসঙ্গে তার ‌‘বাবা ও মা’। মারিয়াদের তিন বোন ও একমাত্র ভাইকে মানুষ করতে কী অমানুষিক কষ্টই না করেছেন এনাতো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন, তা দিয়েই মারিয়াদের চার ভাইবোনের জুটত দুমুঠো ভাত। অনেক দিন তো মা ও বড় বোনের সঙ্গে কাজে হাত লাগাতে হয়েছে মারিয়াকেও। না হলে যে বাড়ির চুলোয় আগুন জ্বলে না। বাফুফের এস্টো টার্ফে সেই গল্প শুনতে গিয়ে আবিষ্কৃত হলো এক অচেনা মারিয়া; যে মারিয়ার ফুটবলের বাইরের জীবনটা কষ্টের কালো ডায়েরি।


নিজ উঠানে চলছে অনুশীলন। সংগৃহীত ছবি
ফুটবলটাই মারিয়ার জীবনে ফুটিয়েছে হাসি। ২০১১ সালে বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট উপলক্ষে খালি পায়ে ফুটবলে হাতে খড়ি হয় ময়মনসিংহ জেলার মেয়েটির। ২০১৩ সালে ধোবাউড়ার বিখ্যাত কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের সদস্য। এর পরেই তার পায়ে ওঠে বুট। আর বদলাতে থাকে মারিয়া মান্ডার পৃথিবী। হ্যাঁ, তখনো কিন্তু মারিয়াকে পাশের বাড়িতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে গৃহপরিচারিকার কাজে হাত লাগাতে হতো।

২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে ডাক পায় মারিয়া। তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে তার সহ-অধিনায়কত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। গত বছর ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলের সহ-অধিনায়কও ছিল মারিয়া। এরপরে জায়গা করে নেয় মূল জাতীয় দলে। শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সাফে বাংলাদেশের রানার্সআপ হওয়ার পেছনে ছোট মারিয়ার অবদান কম নয়। যার ফল স্বরূপ অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে তার বাহুতেই বেঁধে দেওয়া হয় বাংলাদেশের আর্মব্যান্ড। এরপরের গল্পটা তো পুরো বাংলাদেশ দেখল। মারিয়ার হাত ধরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সাম্রাজ্য গেড়ে বসা ভারতকে একই টুর্নামেন্টে হারাল দুই-দুইবার।

মাঠে অধিনায়ক মারিয়ার খেলার ধরনটা পাক্কা রাঁধুনির মতো। তাকে কিছুটা মেলানো যায় স্পেন ও বার্সেলোনার মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটসের সঙ্গে। পা থেকে বল কেড়ে নিতে হবে, সেখানে মারিয়া। আবার মাঝমাঠে বল দখলে রাখতে হবে, সেখানেও আছে খর্বাকৃতির মেয়েটি। বল পায়ে নাও, প্রয়োজন হলে হোল্ড কর, সুযোগ হলে দ্রুত উইংয়ে ভালো একটি পাস দাও। এক কথায় সাধারণ ফুটবল। কিন্তু কজনই-বা পারে এভাবে খেলতে? মারিয়া মান্ডা এত সহজভাবে দারুণ খেলতে পারে বলেই নাকি তাকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানি, ‘মারিয়া সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক সব দলেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। পায়ে বল রাখার ক্ষমতা ভালো। যেকোনো পরিস্থিতিতেই ভালো পাস দিতে পারে। মাঠের বাইরেও দারুণ ঠান্ডা মেজাজের, কোনো ঝামেলায় নেই।’

সতীর্থ সবাই মজে থাকে বাড়ির ছোট মেয়ে মারিয়ার গুণে। দরিদ্র ঘরে জন্ম, পরিবারের জন্য গৃহপরিচারিকার কাজে সহযোগিতা, তবুও সুশিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়নি মারিয়া। কত বাধা পেরিয়ে এখন বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক। চ্যাম্পিয়নদের গল্পটা বুঝি এভাবেই লেখা হয়...।

দলকে রাহুমুক্ত করতে পারবেন রাহুল?




দলের দুঃসময়ে রাহুল গান্ধী যে গুরুদায়িত্বটি পেলেন, তা হলো সভাপতির পদ। আগুয়ান বছরটা পেরোলেই লোকসভা নির্বাচন। মেলা দায়িত্ব, বিস্তর কাজ। রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেসের যে মন্দা, গুজরাটের নির্বাচনে তুলনামূলক ভালো অবস্থান শুভযোগের আভাস দিচ্ছে। অনেকেই বলছেন, রাহুলই পারবেন দলকে রাজনৈতিক মন্দার রাহু থেকে মুক্ত করতে। তবে মতভেদও আছে।

২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো আমেথির সাংসদ হয়ে রাজনীতিতে নাম লেখান রাহুল। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের সহসভাপতি হন। তিনি যে দলের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হবেন, তা আগেই ধরে নেওয়া হয়েছিল।

এক যুগের বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা রাহুলের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে প্রশ্ন রয়েছে। এই সময়ে রাহুল কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ‘ম্যাজিক’ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পরপর দুবার ক্ষমতায় থেকেছে। দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও লোকসভায় রাহুলের ভূমিকা ছিল অনেকটাই ‘নিষ্প্রভ’। দলের নেতা-কর্মী তো বটেই, রাজনীতি-সচেতন সাধারণ মানুষকেও হতাশ করেছেন তিনি। ‘লাজুক’ রাজনীতিবিদের তকমাও জুটেছে তাঁর।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। তারা মাত্র ৪৪টি আসন পায়। এমন পরাজয়ের পর বিধ্বস্ত কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু বিগত বছরগুলোয় তাদের সেই চেষ্টার দৃশ্যমান ফল খুব কমই দেখা গেছে।

কেন্দ্রের ক্ষমতা হারানোর পর নানা দিক থেকে কংগ্রেসের জন্য দুঃসংবাদ আসতে থাকে। পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনে একের পর এক রাজ্য হারিয়েছে কংগ্রেস। ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র এখন গেরুয়াময়। ১৯ রাজ্যের ক্ষমতা বিজেপির দখলে। কংগ্রেসের ঝুলিতে আছে মাত্র চারটি রাজ্য। এই চার রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে আগামী বছর নির্বাচন। সেই নির্বাচনে রাজ্য তিনটি দখলের আগাম হুংকার দিয়ে রেখেছে বিজেপি।

সদ্য শেষ হওয়া গুজরাট নির্বাচনকে রাহুলের নেতৃত্বের জন্য একটা বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হলেও তাদের আসন কমে গেছে। আর পরাজয়ের পরও আসন বেড়েছে কংগ্রেসের।

গুজরাট নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে বলা যায়, নিজেদের দুর্গে বিজেপি একটা ধাক্কা খেয়েছে। ২২ বছর ধরে গুজরাটের ক্ষমতায় বিজেপি। খোদ নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটির ঘাঁটিতে বিজেপিকে ধাক্কা দিতে পারা কম কথা নয়। গুজরাট নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির কপালের ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গুজরাটে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাহুল। তিনি পুরো গুজরাট চষে বেড়িয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেয়, গুজরাটে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কাজটা রাহুল ভালোভাবেই করতে পেরেছেন। ‘এ প্লাস’ না পেলেও তিনি সম্মানজনক একটা ‘নম্বর’ পেতেই পারেন। তা ছাড়া গুজরাট হতে পারে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রেরণার উৎস।

মোদির ভারতে ধর্ম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয় পেতে বিজেপি যে হিন্দুত্ববাদকে পুঁজি করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গুজরাট নির্বাচনের ফল দেখে মোদি ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছেন। দলের সাংসদদের এখনই কাজে নেমে পড়তে বলেছেন তিনি। বোঝাই যাচ্ছে, সামনে কংগ্রেসকে আরও কোণঠাসা করতে মরিয়া থাকবে বিজেপি।

রাহুলের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। রাজনীতিতে ‘অনাগ্রহী’ হিসেবে তাঁর দুর্নাম আছে। বিজেপি তো বলেই বেড়ায়, টুইটার ছাড়া অন্যত্র রাহুলের উপস্থিতি নেই। লোকসভা নির্বাচনের বেশি বাকি নেই। তাই ‘কোকুন’ ছেড়ে রাহুলের বেরিয়ে আসার এখনই সময়। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁকে দল গোছাতে হবে। নেতা-কর্মীদের সংগঠিত ও উজ্জীবিত করে কংগ্রেসের পালে হাওয়া লাগাতে হবে।

অনেক দিন পর কংগ্রেস একজন তরুণ নেতা পেয়েছে। রাহুল নিজের তারুণ্য ও নতুন চিন্তাধারার মাধ্যমে কংগ্রেসকে বদলে দিতে পারেন। একই সঙ্গে জয় করতে পারেন সাধারণ ভোটারদের মন। রাহুলের তারুণ্য এবং দলের প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে কংগ্রেসের পক্ষে বিজেপিকে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। রাহুল ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের পরিণতি আরও করুণ হবে। কংগ্রেস দুর্বল হলে ভারতজুড়ে উড়বে হিন্দুত্ববাদের পতাকা। দল, দেশ ও জনগণের স্বার্থেই রাহুলকে সব রাহু কাটাতে হবে। কাজটি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।

ডি ভিলিয়ার্সকে টপকে ‘ছক্কাবাজ’ রোহিতের রেকর্ড




মারকাটারি ক্রিকেটের এই যুগেও ‘টাইমিং’ আর ‘ক্লাস’ যে শেষ কথা, তার প্রমাণ রোহিত শর্মা। নইলে অমন অবলীলায় ছক্কা হাঁকান কীভাবে! নির্লিপ্ত, কিন্তু রাজকীয় সব ছক্কা রোহিতকে এ বছর পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। যেখানে তিনি টপকে গেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্সকে!

২০১৭ সাল তো অন্তিমলগ্নে। এ বছর আর মাত্র একটি ম্যাচ খেলবে ভারত। সেটা আজই মুম্বাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। আগুনে ফর্মে থাকা ‘মুম্বাইকার’ রোহিত এ ম্যাচে ঘরের মাঠে কী করে বসেন কে জানে! আগের ম্যাচেই অবশ্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছোঁয়ার সঙ্গে একটি কীর্তিও গড়েছেন রোহিত; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ বছর হাঁকিয়েছেন সর্বোচ্চসংখ্যক ছক্কা। ভারতীয় ওপেনার এ পথে টপকে গেছেন ২০১৫ সালে ডি ভিলিয়ার্সের গড়া ৬৩ ছক্কার কীর্তিকে।

সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগ পর্যন্ত এ বছর মোট ৬৪ ছক্কা মেরেছেন রোহিত। এর মধ্যে ওয়ানডেতে ২১ ম্যাচে হাঁকিয়েছেন ৪৬ ছক্কা, যেটা আবার ২০১৭ সালে এ সংস্করণে সর্বোচ্চ। ৩০ ছক্কা নিয়ে দ্বিতীয় রোহিতেরই জাতীয় দল সতীর্থ হার্দিক পাণ্ডিয়া। তবে টি-টোয়েন্টিতে রোহিত দ্বিতীয় স্থানটি ভাগ করে নিয়েছেন চারজনের সঙ্গে। ৮ ম্যাচে সমান ১৫টি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন রোহিত, কলিন মুনরো, মোহাম্মদ নবী আর ডেভিড মিলার। ৯ ম্যাচে তাঁদের থেকে ১৬টি ছক্কা বেশি মেরে শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভিন লুইস। কিছুদিন আগে ক্রিস গেইল যাঁর সমন্ধে বলেছিলেন, ‘ওর দিকে চোখ রাখুন।’

কিন্তু ছক্কা মারায় এ বছর সবার চোখ অন্তত রোহিতের দিকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাগপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরির ইনিংসে একটি ছক্কা মেরেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই ‘হিটম্যান’। দিল্লিতে পরের টেস্টে মেরেছিলেন দুটি ছক্কা। অর্থাৎ ওয়ানডেতে ৪৬, টি-টোয়েন্টিতে ১৫ আর টেস্টে ৩ ছক্কা মিলিয়ে এ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৬৪ ছক্কা হাঁকিয়েছেন রোহিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছরে যা সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড। ২০১২ সালে ক্রিস গেইলের গড়া ৫৯ ছক্কার রেকর্ডটা দুই বছর আগে ডি ভিলিয়ার্স লিখিয়েছেন নিজের নামে। এবার প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে পেছনে ফেলে রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন রোহিত।

কিন্তু তাঁর ছক্কা হাঁকানোর এখানেই শেষ নয়। ম্যাচ তো আরও একটা আছে! সে জন্য রোহিতের ভরসা অবশ্য তাঁর চোখ ধাঁধানো টাইমিংয়ে, ‘আমার অত শক্তি নেই। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আমি টাইমিংয়ের ওপর বেশি ভরসা রাখি।’

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পদক ও পতাকা






এ বছর আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড থেকে বাংলাদেশ দল ফিরেছে চারটি পদক নিয়ে। দেশের পতাকা উড়িয়ে, পদক জয়ের অভিজ্ঞতা লিখেছেন দলের সঙ্গী ইবরাহিম মুদ্দাসসের

আবহাওয়া বার্তা বলছিল, আমরা যখন নেদারল্যান্ডসে পৌঁছাব তখন সেখানে তাপমাত্রা থাকবে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দু-এক দিন পরে পাব শূন্য ডিগ্রি। ভাগ্যে থাকলে দেখা দেবে তুষারপাতও। আর বৃষ্টি হবে যখন-তখন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের ১০ সদস্যের জন্য বিষয়টা দুশ্চিন্তার বটে। কিন্তু আমরা যাচ্ছি আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (আইজেএসও) বাংলাদেশকে তুলে ধরতে। শীতের ভয়ে কাবু হলে চলবে কেন?

ঠান্ডাকে জয় করতে ভারী জ্যাকেট, কয়েক প্রস্থ কাপড়, হাত মোজা, কানটুপি, মাফলার ইত্যাদি লাগেজ ভর্তি করে আমরা ঢাকা ছাড়লাম ২ ডিসেম্বর বিকেলে। আমাদের দলে আছে বাংলাদেশ দলের ছয় শিক্ষার্থী। নটর ডেম কলেজের এ কে এম সাদমান মাহমুদ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের আহমেদ নাফিস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের রুবাইয়াত জালাল, বরিশাল জিলা স্কুলের ইমতিয়াজ তানভির, নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের মুয়াম্বার সারোয়ার এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের আবসার খান। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বুয়েটের অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। দলনেতা হিসেবে আছেন বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের সমন্বয়ক বায়েজিদ ভূঁইয়া ও আমি। পর্যবেক্ষক হিসেবে আছেন বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। আইজেএসওর জন্য এই দলটি নির্বাচন করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল আল–আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। সহযোগী হিসেবে ছিল প্রথম আলো এবং ম্যাগাজিন পার্টনার বিজ্ঞানচিন্তা।

কাতারের দোহায় লম্বা যাত্রাবিরতি দিয়ে আমস্টারডামের স্কিফল বিমানবন্দরে আমরা নামলাম ৩ তারিখ দুপুরে। মেঘে ঢাকা আকাশ, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে, তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি, কুয়াশাও আছে। সব মিলিয়ে আমাদের অপরিচিত আবহাওয়া। এর মধ্যেই যাত্রা শুরু হলো আর্নহেম শহরের দিকে।

আর্নহেম শহরের পাপেন্ডাল হোটেলে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এখানে থাকবে শিক্ষার্থীরা। অলিম্পিয়াডের জন্য এই হোটেলকে বলা যায় আদর্শ। এখানেই অবস্থিত হল্যান্ডের ন্যাশনাল স্পোর্টস সেন্টার। অলিম্পিকে যাওয়া সব অ্যাথলেট প্রশিক্ষণ নেয় এখানেই। আমাদের শিক্ষার্থীরা যে রুমগুলোতে থাকবে, কিছুদিন আগেই হয়তো সে রুমে থেকে গেছে অলিম্পিকে পদকজয়ী কোনো অ্যাথলেট।

দলনেতা আর পর্যবেক্ষকদের থাকার জায়গা হলো জার্মান বর্ডারের খুব কাছের এক হোটেলে। সকালে সূর্য ওঠে পৌনে আটটায়, আবার সোয়া চারটায় ডুবেও যায়। কাজ শুরু হয়ে যায় রাতের অন্ধকারে। পরদিন তাই আমাদের বেরিয়ে পড়তে হলো সাতটার মধ্যে। চারপাশ অন্ধকার। আমরা যাত্রা করলাম হোটেল পাপেন্ডালের উদ্দেশে। সেখানেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

উদ্বোধনীর শুরুতে সব দেশের একজন করে অংশগ্রহণকারী দেশের পতাকা নিয়ে হাঁটল। অর্ধশত দেশের পতাকার মধ্যে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরল সাদমান মাহমুদ।

এবারের আইজেএসওর থিম ছিল ‘ওয়াটার অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাই পানির জয়গান। নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হলো কয়েকবার। আমাদের পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র যে এই অঞ্চলের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত, তা বেশ বোঝা গেল। উদ্বোধনীর পর থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদেরসহ বাইরের সব যোগাযোগ বন্ধ। তাদের সঙ্গে নেই কোনো মোবাইল। আইজেএসও শেষ হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা যেন সময়টা নিজেদের মধ্যে কাটাতে পারে, সে জন্যই এই ব্যবস্থা।

শিক্ষার্থীদের তাদের মেন্টরের কাছে রেখে আমরা চলে গেলাম রেডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ে। অন্য দেশের দলনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিলাম। প্রথমে যৌথ আলোচনা শেষে আমাদের হাতে দেওয়া হলো পরের দিনের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের সব প্রশ্নই সাজানো হয়েছে পানিকে ঘিরে। প্রশ্ন দেখে বুঝলাম, সারা দেশ থেকে বাছাই করা আমাদের ছয় শিক্ষার্থী তিন মাস ধরে বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের একাডেমিক দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে যে প্রস্তুতি নিয়েছে, তাতে আমাদের খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলো তিনটা আলাদা রুমে। আমরাও যোগ দিলাম সে আলোচনায়। কোনো কোনো প্রশ্ন নিয়ে অনেক দেশের দলনেতা ভিন্ন মত দিলেন। কিছু সমস্যার সমাধান হলো। আবার কিছু সিদ্ধান্তের জন্য ভোটাভুটি লাগল। এই পর্ব শেষ হতে হতেই রাত হলো।

আইজেএসওর রুটিনে একটা ব্যাপার ধরাবাঁধা। একদিন শিক্ষার্থীরা ঘুরে বেড়ায়, দলনেতারা প্রশ্ন যাচাই-বাছাই করে। পরদিন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়, দলনেতারা ঘুরে বেড়ায়। ৬ তারিখেও তা-ই হলো। শিক্ষার্থীরা ঘুরে বেড়াল। একটা স্কুলে গিয়ে দেখল এখানকার পড়াশোনা। পদার্থবিজ্ঞান আর গণিতের একটা করে ক্লাসও করে এল। আর আমাদের সময় কাটল প্রশ্ন নিয়ে। ৭ ও ৮ তারিখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, আমাদের ঘোরাফেরার পালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, রটরডেম, আমস্টারডাম ঘুরে সময়টা বেশ ভালো কাটল।

১০ তারিখ উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হলো। আমাদের শিক্ষার্থীদের খাতা দেখল স্থানীয় আয়োজকদের সায়েন্টিফিক কমিটি। উত্তরপত্রের একটা কপি দেওয়া হলো আমাদের। কিছু জায়গায় মনে হলো আমরা আরও কিছু নম্বর পেতে পারি। কমিটির সঙ্গে ‘দর-কষাকষিতে’ কিছু নম্বর যোগ হলো। পরে দেখা গেছে, এই নম্বর বাড়াতে পারায় আমাদের ঝুলিতে এসেছে একটা রৌপ্য পদক।

১১ ডিসেম্বর দুপুরে গেলাম আর্নহেমের সবচেয়ে বড় কনসার্ট হলে, সমাপনী পর্বে যোগ দিতে। শিক্ষার্থীরা পৌঁছে গেছে আমাদের আগেই। বর্ণানুক্রমে আসন হওয়ায় বাংলাদেশ দল জায়গা পেয়েছিল মঞ্চের সামনে। বক্তৃতা, গান আর নাচে জমে থাকে পুরো অনুষ্ঠান। সবশেষে হয় পদক বিতরণ। শুরুতেই দেওয়া হয় ব্রোঞ্জ পদক। বাংলাদেশ দল থেকে ব্রোঞ্জ পায় তিনজন—আহমেদ নাফিস, রুবাইয়াত জালাল ও ইমতিয়াজ তানভীর। ওরা তিনজন মঞ্চে ওঠে আমাদের লাল–সবুজ পতাকা নিয়ে। বিশ্বমঞ্চে বিজয়ের মাসে আমাদের পতাকা দেখে আমরা সবাই আবেগাপ্লুত হই।

এরপর ঘোষিত হয় রৌপ্য পদকজয়ীদের নাম। বাংলাদেশ দল থেকে রৌপ্য পদক জেতে আবসার খান। নাফিস আর রুবাইয়াতের সঙ্গে সিয়ামের নম্বর ব্যবধান ছিল খুবই কম। আমরা বুঝতে পার

দুর্বার গার্দিওলায় চুরমার মাইলফলক




ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ বেয়ে দুর্বার গতিতে ছুটছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। সে গতির হলকা এতটাই যে পরিসংখ্যানের বই খুলতে বাধ্য হয়েছেন ফুটবল-পণ্ডিতরা।

একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, ২০০৩-০৪ মৌসুমে আর্সেনালের ‘দ্য ইনভিন্সিবল’ দলটি ৩৮ ম্যাচে ৭৮ গোল করে শিরোপা জিতেছিল। কিংবা ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ‘ট্রেবল’ জেতানো সেই দলটার কথাই ধরুন, গোটা মৌসুমেই তারা করেছিল ৮০ গোল। আর এবার শুধু প্রিমিয়ার লিগের মাঝপথ (১৯ ম্যাচ) পর্যন্ত আসতেই গার্দিওলার শিষ্যরা করেছেন ৬০ গোল!

আর্সেনাল ফরোয়ার্ড ড্যানি ওয়েলবেক তাই মজা করে টুইট করেছেন, ‘বিশ্বের অন্যতম কঠিন লিগকে গার্দিওলা নিজের ব্যক্তিগত ফিফা ১৮ গেমে পরিণত করেছেন!’ ইংলিশ ফুটবলারটি বাড়িয়ে বলেননি মোটেও। বোর্নমাউথকে গতকাল ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ম্যানচেস্টার সিটি। লিগে এটা ছিল তাদের টানা ১৭তম জয়, যা ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় লিগে টানা সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচ জয়ের রেকর্ড।

গার্দিওলা সম্ভবত নিজের গড়া রেকর্ডটাই ভেঙে ফেলবেন! ২০১৩-১৪ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখকে টানা ১৯ ম্যাচ জিতিয়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে এটাই টানা সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচ জয়ের নজির। নিজের গড়া সেই রেকর্ড ভাঙতে পরবর্তী তিন ম্যাচে জয় চাই গার্দিওলার। সেটা না হলেও খুব বেশি কষ্ট থাকবে গার্দিওলার? তাঁর মতো কোচের কাছে তো শিরোপাজয়ই শেষ কথা। সে পথেও টেবিলে দ্বিতীয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (৪২ পয়েন্ট) থেকে গার্দিওলার সিটি (৫৫ পয়েন্ট) বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে।

তবে শিরোপাজয়ের ইঙ্গিতবাহী এই পয়েন্ট ব্যবধানে পৌঁছাতে গার্দিওলাকে জিততে হয়েছে ম্যাচের পর ম্যাচ। সে জন্য গোল করার বিকল্প নেই। তা, গার্দিওলার সিটি কিন্তু এ বছর ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় লিগে গোলের ‘সেঞ্চুরি’ করেছে! ২০১৭ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এ পর্যন্ত ১০১ গোল করেছে সিটি। ১৯৮২ সালে লিভারপুলের (১০৬ গোল) পর ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় লিগে প্রথম দল হিসেবে এক বর্ষপঞ্জিতে গোলের ‘সেঞ্চুরি’ করল গার্দিওলার সিটি। তবে ১৯৯২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চালু হওয়ার পর এক বর্ষপঞ্জিতে এটাই প্রথম কোনো দলের শততম গোলের মাইলফলক গড়ার নজির। এর আগে ২০০০ সালে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ৯৫ গোল করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

তবে গার্দিওলার শিষ্যরা যে গতিতে ছুটছেন, তাতে কিন্তু লিভারপুলের ১১৬ গোলের কীর্তিটা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ২০১৭ শেষ হওয়ার আগে লিগে আরও দুটি ম্যাচ খেলবে সিটি। সুযোগটা তাই থাকছে।

ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ




বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’—প্রকম্পিত গর্জন। গ্যালারিতে লাল-সবুজ পতাকার দোল খেয়ে যাওয়া। বাংলাদেশের ফুটবলে এ তো ভুলে যাওয়া দৃশ্য। মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবল উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফিরে এল এমন দৃশ্য। দর্শকদের সমর্থনের জবাবটা ভালোই দিল বাংলাদেশের মেয়েরা। ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন শামসুন্নাহার।

স্কোর লাইনটা বোঝাতে পারছে না ম্যাচে বাংলাদেশের দাপট। বল পজিশনে অনেক এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে আগের ম্যাচের মতো টিকি-টাকা ফুটবল আর দেখাতে পারেনি গোলাম রব্বানির শিষ্যরা। আসলে অঙ্ক কষেই মাঠে নেমেছিল ভারত। বাংলাদেশের মেরুদণ্ড দুই মিডফিল্ডার অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা ও মনিকা চাকমাকে কড়া ম্যান মার্কিয়ে রেখে কিছুটা সফলতা দেখিয়েছে তারা। তাই মাঝমাঠ থেকে ফণা তোলা সাপের মতো রক্ষণচেরা পাস আজ কিছুটা ছিল অনুপস্থিত।
তবুও অদম্য বাংলাদেশকে থামানো যায়নি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে এক গোলও হজম করেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। আজ ফাইনালে বাংলাদেশের রক্ষণ দেয়াল ভাঙবে, এমন ভয়ও সৃষ্টি করতে পারেনি প্রতিপক্ষ। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক শামসুন্নাহারকে সময়মতো পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে দু-একটা বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি ফ্রি-কিক নিতে হয়েছে গ্রিপে। এই তো !

অন্যদিকে উইং দিয়ে মার্জিয়া ও শামসুন্নাহার আক্রমণের ঝড় তুললেন ফর্মুলা ওয়ানের গতিতে। বিশেষ করে বাঁ প্রান্তে বাঁ পায়ের শামসুন্নাহারকে থামাবে, এমন সাধ্য আছে কার। ৪১ মিনিটে বাংলাদেশের গোলটি করেছেন শামসুন্নহারারই। বাম প্রান্ত দিয়ে বক্সে প্রবেশ করে আনুচিং মারমাকে পাস দিয়ে ফলো থ্রুতে যায় সে। গোলমুখের জটলা থেকে আনুচিং মারমা শট নিলে গোলরক্ষকের হাতে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে আলতো ভলিতে জালে জড়ায় শামসুন্নাহার।
৬১ মিনিটে আনাই মগিনি-মার্জিয়া ও তহুরার রসায়নে ম্যাচের সেরা মুভ। রাইটব্যাক আনাই মগিনি উইঙ্গার মার্জিয়াকে বল দিয়ে ওভারল্যাপে উঠে সেই বল নিয়ে এরিয়াল থ্রু খেলে তহুরাকে। সেখান থেকে তহুরা বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে কাটালেও বল চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। হলো না ২-০।

গোল ব্যবধান যা–ই হোক । জয় তো জয়ই জয়। এই জয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবলের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ অদম্য, এই বাংলাদেশ অপরাজিত । এই বাংলাদেশকে কেউ গোল দিতে পারে না।

Saturday, December 23, 2017

মেসির অন্য রকম উদ্‌যাপন




উদ্‌যাপনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেমন চোস্ত, লিওনেল মেসি ততটা নন। গোলের পর বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকার উদ্‌যাপন বরাবরই সাদামাটা। কিন্তু ইদানীং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোল পেলেই যেন ভিন্নভাবে গোল উদ্‌যাপনের শখ জাগে বার্সার মেসির।

গত মৌসুমে শেষ মুহূর্তে গোলের পর জার্সি তুলে ধরেছিলেন মেসি। আজ ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলের দ্বিতীয় গোলটি করার পর তাঁর উদ্‌যাপন হলো আরেক কাঠি সরেস। রিয়াল-ভক্তদের গ্যালারির সামনে গিয়ে খুঁজছিলেন বার্সা সমর্থকেরা কোথায়। অবশেষে তাঁদের দেখা পেয়ে কুর্নিশ করতে করতে প্রথমে একটা চুমু, তারপর আস্তে আস্তে দুহাত মাথার ওপরের দিকে দুদিকে উঁচিয়ে ধরলেন! যেন বোঝাতে চাইলেন—আমার সব চেষ্টা শুধু তোমাদের জন্য!
মেসির চেষ্টা যে বিফলে যায়নি তা তো স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে। রিয়ালের মাঠেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে বিধ্বস্ত করেছে বার্সা।

যেখানে মেসির কাছে হারলেন রোনালদো




রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা ম্যাচ মানেই আজ একসঙ্গে মাঠে দৌড়েছে ১০টি ব্যালন ডি’অর বিজয়ী। বোঝা-ই যায়, বলা হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির কথা। এল ক্লাসিকো মানেই তো লড়াইয়ের মধ্যে লড়াই। কে সেরা? রিয়াল না বার্সা, মেসি না রোনালদো?

আজ মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে বার্সা। এই জয়ে লা লিগার শিরোপাটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে কাতালানদের। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বার্সার এই রাজকীয় জয়ে মেসির অবদান কেমন? আর রোনালদোই বা ম্যাচে কী ভূমিকা রাখতে পেরেছেন? খেলা শেষ হতেই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আর তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে মেসির কাছে প্রতিটি ক্ষেত্রেই হেরেছেন রোনালদো।

শুরুর ঝলকটা দেখিয়েছিলেন রোনালদোই। কিন্তু দুই মিনিটে তাঁর হেড থেকে করা গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে শুধু হতাশা উপহার দিয়েছে পর্তুগিজ তারকা। ১০ মিনিটে পেনাল্টি স্পটের পাশ থেকে আনমার্কড থাকা অবস্থায় ঠিকমতো বলটি পায়ে লাগাতে পারলে, মাদ্রিদ তখনই এগিয়ে যেতে পারত। কিন্তু দিনটা তো আজ রোনালদো বা মাদ্রিদের ছিল না। সেখানে দিনটি হয়ে গিয়েছে মেসিময় বার্সেলোনা। মেসি পেনাল্টি থেকে নিজে করেছেন একটি গোল। আর একটি গোলে রেখেছেন অবদান। যোগ করা সময়ে ডান প্রান্ত থেকে তাঁর দেওয়া পাস থেকেই ৩-০ করেছেন অ্যালেক্স ভিদাল।

পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, আজ মাত্র ২২ পাস দিয়েছেন রোনালদো। সেখানে মেসি দিয়েছে ৫০টি। মেসি যেখানে নয়টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, সেখানে রোনালদো সুযোগ তৈরি করেছে মাত্র একটি। আর মেসির নেওয়া চারটি শটের মধ্যে তিনটি ছিল পোস্টে। সেখানে রোনালদো মাত্র একটিবার বল পোস্টে রাখতে পেরেছেন। আর ৩-০ গোলের জয়ে মেসির তো একটি গোল আছেই।

কোহলির চেয়ে স্মিথ ভালো



কে সেরা? বিরাট কোহলি না স্টিভেন স্মিথ? এমন বিতর্ক এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের দুই ভাগে ভাগ করেছে। ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নিয়মিত হানা দিচ্ছেন দুই দেশের দুই অধিনায়ক। সাবেক ক্রিকেটাররাও দুজনের মধ্যে তুলনা করছেন, বেছে নিচ্ছেন সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান। তবে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন এগিয়ে রাখছেন স্মিথকেই।

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার স্মিথকে এগিয়ে রাখছেন টেস্টের রেকর্ড হিসাবে নিয়ে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কোহলি ইতিমধ্যেই নিজেকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু টেস্টে বড় ইনিংস খেলায় দিন দিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন স্মিথ। নিউজ কর্পের কলামে ওয়ার্ন লিখেছেন, ‘আমার কাছে স্টিভ স্মিথ বিশ্বের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান। কোহলি হয়তো তিন সংস্করণে সেরা, কিন্তু পাঁচ দিনের খেলায় স্মিথই আসল খেলোয়াড়।’
কোহলির ব্যাটিংকে যথেষ্ট কদর করেন ওয়ার্ন। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারতের সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে কোহলির ব্যর্থতার কারণেই তাঁকে নম্বর কম দিয়েছেন, ‘আমার বিচারে সেরা ব্যাটসম্যানদের তিনটি দেশে রান করতে হবে। ইংল্যান্ডের সুইং ও সিমিং কন্ডিশনে ডিউক বলে, অস্ট্রেলিয়ার গতিময় আর বাউন্সি উইকেটে আর ভারতের ধুলোময় স্পিনিং উইকেটে।’

ইংল্যান্ডের মাটিতে তিনটি অ্যাশেজ সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৪টি ফিফটি রয়েছে স্মিথের। ১২ ম্যাচ ও ২৩ ইনিংস খেলে তাঁর মোট রান ৯৩৫, সর্বোচ্চ ২১৫ ও গড় ৪৩.৩১। এর মধ্যেই ২২টি টেস্ট সেঞ্চুরি করা অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের টেস্টে ক্যারিয়ার গড়টা ঈর্ষণীয়, ৬২.৩২। ব্র্যাডম্যান-পরবর্তী যুগে কোনো অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের এতটা ভালো গড় ছিল না। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে ২০১৪ সালের সেই সিরিজে ৫ ম্যাচ ও ১০ ইনিংস মিলিয়ে মোটে ১৩৪ রান করেছিলেন কোহলি, সর্বোচ্চ ৩৯ ও গড় ১৩.৪০। অথচ টেস্ট ক্যারিয়ারে কোহলির গড়টাও ফেলনা নয়, ৫৩.৭৫ রান।

দুজন পুরোপুরি দুই ঘরানার ব্যাটসম্যান। কোহলি যেমন ব্যাকরণের পাশাপাশি পেশির ক্রিকেটেও সমান দক্ষ। অন্যদিকে স্মিথের ব্যাটিংকে কোনো ঘরানায় ফেলা সম্ভব নয়। নিজেদের মতো করেই রানের ফোয়ারা ছোটান দুজন। কিন্তু বিভিন্ন কন্ডিশনে রান করেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে কোহলিকে। অন্তত ওয়ার্নের দাবি সে রকমই।

হাথুরু সব জানেন বলেই বিসিবির চিন্তা




বিপিএল চলার সময়ই বাংলাদেশ দলের এক সিনিয়র খেলোয়াড় বলছিলেন, ‘সে তো আমাদের ভেতর-বাহির সবই জানে। অন্তত শ্রীলঙ্কা সিরিজটায় তাকে আটকানোর দরকার ছিল।’ এই ‘সে’ হচ্ছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশের সাবেক এই কোচের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট শুরু হচ্ছে জানুয়ারিতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই।

আগামী মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ তাই যতটা চ্যালেঞ্জের, বিসিবির কাছে তার চেয়েও বেশি ‘উদ্বেগে’র। গত সাড়ে তিন বছরের অভিজ্ঞতায় যেহেতু বাংলাদেশ দলের আদ্যোপান্ত সবই জানা হাথুরুর, বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান তাই আজ সংবাদমাধ্যমকে বললেন, ‘চ্যালেঞ্জের চেয়ে চিন্তাটাই একটু বেশি। যেহেতু একটা দলের সঙ্গে এত দিন সে ছিল। আমাদের ভালো দিকটা সে যেমন জানত, দুর্বলতাগুলোও জানে। এই জিনিসটা আমাদের জন্য চিন্তার ব্যাপার। এই সিরিজটার পরে আমরা শ্রীলঙ্কায়ও (মার্চে) খেলব। সেটাও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। আমাদের কাছে এটা গুরুতর ব্যাপার।’

হাথুরুকে নিয়ে যেমন বিসিবি চিন্তা করছে, বাংলাদেশ দলকে নিয়ে তেমনি চিন্তায় থাকার কথা হাথুরুরও। সাবেক শিষ্যরা না আবার ‘গুরুমারা বিদ্যা’ ফলিয়ে বসেন!

ক্লাসিকোতে ক্লাসিক বার্সায় বিধ্বস্ত রিয়াল



এখনো পাঁচ মাস বাকি লা লিগা শেষ হতে। তবে বার্সেলোনা আজই শিরোপা উৎসব করে ফেলতে পারে। বার্নাব্যুতে এসে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গেল বার্সা। রিয়ালের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়ে বড়দিনের ছুটিতে বার্সা। মেসি-সুয়ারেজদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল রোনালদোরা। এই জুটি গোল করেছেন। গোল করেছেন অ্যালেক্স ভিদালও।

অথচ ম্যাচের শুরুতে উজ্জ্বল ছিল রিয়ালই। দ্বিতীয় মিনিটেই গোল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর! সেটা অফসাইডে বাতিল হলেও চমকে উঠতে হয়েছিল। কারণ, এ ম্যাচে এত দ্রুত তো গোল হওয়ার কথা নয়। অতীত ইতিহাস কিংবা দুই দলের দ্বৈরথ চিন্তা করে এমন কথা নয়। দুই দলের একাদশ দেখেই মনে হলো, এ ম্যাচে আর যা–ই হোক, গোল–বন্যা হচ্ছে না।
রিয়ালের মাঠে খেলতে এসেছে বার্সেলোনা। লিগে এগিয়ে আছে ১১ পয়েন্টে। এ ম্যাচে যে ভালভার্দে সাবধানী হবেন তা জানা ছিল। তাই বার্সার ৪-৪-২ ফরম্যাশন দেখে বিস্ময়ের কিছু ছিল না। অবাক করেছেন জিদান। গ্যারেথ বেল থাকছেন না শুরুতে জানা ছিল। তাঁর জায়গায় ইস্কো না লুকাস ভাসকেজ, সেটাই ছিল প্রশ্ন। সেখানে প্রথম একাদশে নামলেন কোভাচিচ। অর্থাৎ ৪-৪-২!
মাঝমাঠেই যেখানে ট্যাকটিকসের লড়াই হবে, সেটার ইঙ্গিত ফরম্যাশনেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তো এমন ম্যাচে দ্বিতীয় মিনিটেই রোনালদোর ওই হেড চমকে দিয়েছিল। তবে ১০ মিনিটে চমকটা আরও বাড়ল। যখন প্রায় পেনাল্টি স্পটে পাওয়া বলটি থেকে ফাঁকায় থাকা রোনালদো পা ছোঁয়াতে পারলেন না। সাধারণত বিশ্বস্ত বাঁ পা বলে শট নিলেই এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। কিন্তু পায়ে-বলে হলো না রোনালদোর।
শুরু থেকে চেপে বসা রিয়ালের কবজা থেকে বার্সার মুক্তি মিলল ১৫ মিনিট পেরিয়ে। ১৮ মিনিটে প্রথম রিয়ালের বক্সে বল নিয়ে বার্সা ঢুকতে পারল।

ম্যাচ পরিসংখ্যান
রিয়াল 
বার্সা
১৪
শট
১৮
লক্ষ্যে শট
১১
১৪
ফাউল
১০
হলুদ কার্ড
লাল কার্ড
অফসাইড
কর্নার
সেভ

 ম্যাচের পরবর্তী ভালো সুযোগটাও বার্সেলোনা পেয়েছে। ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকা মেসি থ্রু বলে খুঁজে নিলেন পাওলিনহোকে। দারুণ এক দৌড়ে নিজেকে ফাঁকায় নিয়ে যাওয়া পাওলিনহো শটও নিয়েছিলেন দারুণ। তবে কেইলর নাভাসের সেভে বেঁচে গেল রিয়াল। সেখান থেকে পাওয়া কর্নার থেকেও গোল করতে পারত বার্সা। কিন্তু ফাঁকায় থাকা পিকে বল নিয়ন্ত্রণেই নিতে পারেননি।

প্রতি আক্রমণে উঠল রিয়াল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া রোনালদোর শট দারুণ এক সেভে গোলে যেতে দেননি মার্ক টের স্টেগেন। ৩৪ মিনিটে বেনজেমাকেও গোল করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। কিন্তু বেনজেমা পারেননি সে সুযোগ কাজে লাগাতে। ৩৯ মিনিটে পাওলিনহোকে আরেকবার গোলবঞ্চিত করলেন নাভাস। জোরালো হেডটা কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন রিয়াল গোলরক্ষক।
তবে প্রথমার্ধের সবচেয়ে ভালো সুযোগটা দেখা গেছে ৪২ মিনিটে। মার্সেলোর ক্রস থেকে বেনজেমার হেড টের স্টেগেনকে ফাঁকি দিলেও গোলপোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বাড়ায় বার্সেলোনা। ৫৩ মিনিটেই এর ফল মেলে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগোলেন রাকিটিচ। সেটা বক্সের কাছে এসে ডান প্রান্তে সার্জি রবার্তোকে দিলেন। রবার্তোর ক্রস খুঁজে পেল সুয়ারেজকে। এবার আর বাধা হতে পারলেন না নাভাস। রিয়ালের মাঠে এগিয়ে গেল বার্সা (১-০)।
ম্যাচটা শেষ হয়ে গেল ৬২ মিনিটে। মেসির এক পাসে রিয়ালের ডিফেন্স ছত্রখান। সুয়ারেজের শট ঠেকিয়ে দিলেন নাভাস। সুয়ারেজের ফিরতি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে পাওলিনহো হেড নেন। সে বল আটকাতে হাত ব্যবহার করেন কারভাহাল। সরাসরি লাল কার্ডের সঙ্গে পেনাল্টি।
পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন মেসি (২-০)। ৬৯ মিনিটে মেসির শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়াতে দেননি নাভাস।
বদলি নেমেই রিয়ালের খেলায় গতি এনেছেন বেল। ৭৭ ও ৭৮ মিনিটে তাঁকে দুবার গোলবঞ্চিত করেছেন টের স্টেগেন। ৮০ মিনিটে ইনিয়েস্তার বদলি নামা সেমেদো ৩-০ প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু এবারও নাভাস বাধা হয়ে দাঁড়ালেন। ৮১ মিনিটে রামোস সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যবধান কমাতে পারেননি। ৮২ মিনিটেও সুযোগ পেয়েছিলেন রামোস। এবার রোনালদোর পাসে পা ছোঁয়াতে পারেননি।
যোগ করা সময়ে কফিনে পেরেক ঠুকেছেন সেই মেসি। ডান প্রান্ত থেকে তাঁর দেওয়া পাস থেকে গোল করার কাজ সেরেছেন অ্যালেক্স ভিদাল। শুধু রিয়াল নয়; আজকের লড়াইয়ে মেসির কাছে হারলেন রোনালদোও!

বাংলাদেশ প্রাথমিক দলে ডাক পেলেন যাঁরা




জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ, পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে আজ ৩২ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নির্বাচক, এমনকি বিসিবির পরিচালনা বিভাগের প্রধান আগেই আভাস দিয়েছিলেন, নতুন মুখ থাকবে না এই দলে। কিন্তু স্কোয়াড ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়েছেন অন্তত তিন নতুন মুখ।

প্রাথমিক দলে ঠাঁই পাওয়া বেশির ভাগই জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ। বাংলাদেশ দল থেকে ছিটকে পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন করে সুযোগ পেয়েছেন এনামুল হক-মোহাম্মদ মিঠুনরা। বিপিএলে ভালো করে এই দলে সুযোগ মিলেছে আবু হায়দার, আবু জায়েদ ও আরিফুল হকের। একেবারে নতুন মুখ হচ্ছেন সাদমান ইসলাম অনিক, বিপিএলে আলো ছড়ানো মেহেদী হাসান ও নাজমুল ইসলাম।
১১ পেসার, ৫ বিশেষজ্ঞ স্পিনার রাখা হয়েছে দলটাতে। ২৭ ডিসেম্বর ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের অধীনে শুরু হবে বাংলাদেশ দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। আজ বিসিবির পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান জানান, সর্বশেষ বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান কোচিং স্টাফ চালিয়ে নেবে জানুয়ারিতে দেশের মাঠে হতে যাওয়া শ্রীলঙ্কা সিরিজ।

বাংলাদেশ প্রাথমিক দল:
মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, এনামুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম, নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন, সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, আবু হায়দার, আবু জায়েদ, শুভাশিস রায়, রুবেল হোসেন, আবুল হাসান, কামরুল ইসলাম রাব্বী, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, সানজামুল ইসলাম, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান ও সাইফউদ্দিন।

মেয়েদের শিরোপা স্বপ্নে আপনি থাকছেন তো?




চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন’ গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভোর কল্যাণে। গানটি ছাড়া উপমহাদেশে এখন আর যেন কোনো শিরোপা জয়ের উদ্‌যাপনই পূর্ণতা পায় না। তা সে যে খেলায়ই হোক না কেন। গানটিকে মনের মধ্যে ‘রিংটোন‘ হিসেবে সেট করে নিয়েছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। শয়নে-স্বপনে একটাই ভাবনা, ভারতকে হারিয়ে হতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আগামীকাল বেলা দুইটায় মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। খেলাটি মাঠ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে প্রথম আলো ইউটিউব চ্যানেল ও প্রথম আলো ফেসবুক পেজ।
এর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ফাইনালের আত্মবিশ্বাস অর্জনের পথে যা বেশ বড় একটা ধাপ। তবে পেছনের ম্যাচ নিয়ে আর পড়ে থাকতে চান না, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন,‌ ‘আগের ম্যাচে ভারতকে হারিয়েছি, যা আমাদের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস। তবে আগের ম্যাচ নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। প্রতিটা ম্যাচই নতুন। আগামীকাল ভারতকে হারানোর জন্য নতুনভাবে তৈরি হয়েছি আমরা। আত্মবিশ্বাস আছে চ্যাম্পিয়ন হতে পারব।’
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল আছে দুর্দান্ত ছন্দে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১২ গোল করার বিপরীতে তারা একটি গোলও হজম করেনি। ফাইনালেও গোলপোস্টটা যে অক্ষত থাকবে, সে আশা তো করাই যায়।
তবে গ্রুপ ম্যাচে তিন গোল হজম করলেও দমে যাচ্ছেন না ভারতীয় দলের কোচ মায়মল রকি। তাঁর আশা, শিষ্যরা নতুনভাবে ফিরে আসবে,‌ ‌‘ফাইনালের জন্য মুখিয়ে আছি এবং আমরা ভালো একটা ম্যাচ খেলতে চাই। আশা করি, দর্শক, গণমাধ্যম সবাই ম্যাচটা উপভোগ করবে। আগের ম্যাচের ফল আমাদের নিরুৎসাহিত করছে না বরং এটা আমাদের ফাইনালে আরও ভালো খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।’
ফাইনাল নিয়ে দুই দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং চলছে। বলা হচ্ছে, ‘ফুটবল, ফুটবল...খেলা দেখতে আসুন। মেয়েদের উৎসাহিত করুন।’ মেয়েরা ভালো খেলছে। দেশের ফুটবলের বাস্তবতা বিচারে কোনো অলীক স্বপ্ন নয় বরং তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে পারফরম্যান্স দিয়েই মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হতে চায়। আপনি আসছেন তো তাদের আশার পালে আশা জোগাতে?’

‘খোদার কসম মাশরাফি, তোমার খুঁড়িয়ে হাঁটা সহ্য হয়না’

‘খোদার কসম মাশরাফি, তোমার খুঁড়িয়ে হাঁটা সহ্য হয়না’

রাখী নাহিদ: আমি চাই মাশরাফি অবসর নিক!! শুধু টি-টোয়েন্টি থেকে না,ওয়ান ডে এবং টেস্ট ক্রিকেট থেকেও!! কারণ হয়তো মাশরাফির রিপ্লেসমেন্ট আসবে!!হয়তো অন্য কেও মাশরাফির মতো বা তার থেকেও ভালো খেলবে!!হয়তো নতুন ক্যাপ্টেন কে নিয়েও দেশ আহ্লাদিত হবে,আনন্দিত হবে!!

কিন্তু এটা তো কোনো হয়তো নেই যে,মাশরাফির পায়ের অবস্থা ভালো না!!এটা তো নিশ্চিত যে ওর পা' দুটোর সিরিয়াস কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে তার রিপ্লেসমেন্ট আসবেনা!!

আমার ধারণা মাশরাফির পরিবারও চাননা ও আর বেশিদিন খেলুক!!মাশরাফি অন্যের ছেলে,তবুও যখন ও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটে,ফিল্ডিং করতে গিয়ে যখন পড়ে যায়,তখন আমার কলিজাটা ছিড়ে যায়,কান্না আটকাতে পারিনা!!ঠিক তেমন কষ্ট হয় যেমন আমার ছেলেদুটো ব্যাথা পেলে হয়!! না জানি ওর মা,স্ত্রী কত টেনশন করে,কত কষ্ট পায়!!



এই দেশে মানুষ বেশিদিন কারো অবদান মনে রাখতে পারেনা!!ওর বীরত্বের কাহিনীও স্বাভাবিকভাবেই ম্লান হয়ে যাবে একদিন!!তাই মাশরাফির উচিত এখনই অবসর নেয়া!!খেলতে খেলতে পঙ্গু হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ওয়েট করা উচিত না!!

এদেশে অনেক শিল্পী,গুণী মানুষ ক্যারিয়ার শেষ হবার পর অসুস্থ হয়ে অনাদরে অবহেলায় দিন কাটান!!আমরা তাদেরকে উঁকি দিয়েও দেখিনা!!প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আমরা কাওকেই মনে রাখিনা!!

এই কথা লিখে রাখতে পারেন যে মাশরাফির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আমরা তাকেও মনে রাখবোনা!! তাই আমাদের জন্য ওর উচিত হবে না নিজেকে ফুরিয়ে দেয়া!!

মাশরাফি একজন বীর!!বীরের মতো সিনাটান করে বিদায় নিক মাঠ থেকে,কারো কাঁধে ভর দিয়ে না!! খোদার কসম মাশরাফি,তোমার খুঁড়িয়ে হাঁটা সহ্য হয়না......।

লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত

‘এল ক্লাসিকো’ দেখবেন না নেইমার!





নেইমার বার্সেলোনা ছেড়েছেন প্রায় তিন মাস আগে। পিএসজির প্রাণভোমরা হয়ে নিজেকে বেশ গুছিয়ে নিয়েছেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড। কিন্তু এখনো বার্সার ম্যাচের আগে বারবার ঘুরে-ফিরে আসেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ত্রয়ী ‘এমএসএন’-এর অংশ হিসেবে সাবেক বার্সা ফরোয়ার্ডকে নিয়ে এবারের এল ক্লাসিকোর আগেও আলোচনা হবে, তাতে আর আশ্চর্যের কী?

তবে নেইমারের কাছে বার্সার দিনগুলো এখন অতীতই। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে তো জানিয়েই দিয়েছেন, এবারের এল ক্লাসিকো তিনি দেখবেনই না। পিএসজির কাতার সফর আছে। এই মুহূর্তে তাঁর ভাবনাজুড়ে আছে বর্তমান ক্লাবই, ‘এখন আমি শুধু পিএসজিকে নিয়েই ভাবছি। আমি এই ম্যাচটি দেখব না।’

সাবেক ক্লাবের কথা বাদ থাকুক, ফুটবল-ভক্ত হিসেবেও তো এল ক্লাসিকোর উত্তেজনা ছুঁয়ে যাওয়ার কথা ব্রাজিলের অধিনায়ককে। কিন্তু নেইমার এখানে ব্যতিক্রম। পিএসজিতে এসে আপাদমস্তক পেশাদার তিনি। বর্তমান ক্লাবের প্রতি নিজের একাগ্রতা প্রকাশ করতেই যেন এল ক্লাসিকো না দেখার ঘোষণা দিলেন মেসি-সুয়ারেজদের সাবেক সতীর্থ।

কদিন আগেই রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোস বলেছিলেন, এল ক্লাসিকোয় তাঁদের অন্যতম হুমকি ছিলেন নেইমার। লিওনেল মেসির পাশেও নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন। বার্সার হয়ে ১২৩ ম্যাচে ৬৮ গোল তাঁর। কিন্তু এক বনে নাকি দুই বাঘ থাকতে পারে না। তাই নিজের সাম্রাজ্য গড়ার প্রত্যয় নিয়ে লা লিগা ছেড়ে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান আলোকিত করছেন নেইমার। এই মৌসুমে লা লিগার প্রথম এল ক্লাসিকোতেও তাই নেইমারের ছায়াটা ভালোভাবেই থাকবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।

নাসির, হলো না!




নাসির হোসেন কোনা কিছু নিয়ে কখনোই আক্ষেপ করেন না। জীবন এবং ক্রিকেটকে উপভোগ করার মূলমন্ত্রে বিশ্বাস করেন জাতীয় দলের এই অলরাউন্ডার। কিন্তু আজ বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে আউট হওয়ার পরও কি একটুও আক্ষেপ হবে না তাঁর? জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের শেষ দিনের খেলায় মাত্র ৫ রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন জাতীয় দলের এই ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

গতকাল ২৭০ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন নাসির। আজ সকালে ম্যাচের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই ছিলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের কেবল দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩০০ রান করার সুযোগ ছিল তাঁর। ‘ছিল’ বলতে হচ্ছে, কারণ তীরে এসে তরি ডুবেছে নাসিরের। লিংকন দে সঞ্জয়ের বলে ফজলে রাব্বীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৯৫ রানে আউট হয়েছেন তিনি। তিনি ফিরতেই ইনিংস ঘোষণা করেছে রংপুর। প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৬১৪ রান। ২৭৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছে বরিশাল। এই প্রতিবেদন লেখার সময় তাদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৩২ রান।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই নাসিরের সর্বোচ্চ ইনিংস। ৮০ ম্যাচে ৪ হাজার ৪০৯ রান করেছেন তিনি। এর আগে দ্বিশতক করেই আউট হয়েছিলেন; সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ২০১ রানের। ৫ সেঞ্চুরির সঙ্গে ২৭টি অর্ধশতক রয়েছে তাঁর। ব্যাটিং গড় ৩৫.৮৪। টেস্টে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দাবিটা আবারও জোরালো করলেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র রকিবুল হাসানই এর আগে ট্রিপল সেঞ্চুরি দেখা পেয়েছেন। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ করা তাঁর ৩১৬ রানই এখন পর্যন্ত ঘরোয়া লিগে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস। ত্রিশতকের দেশি ক্লাবে নিঃসঙ্গ এই ব্যাটসম্যানের সঙ্গী হতে পারতেন নাসির। ঘুরে-ফিরে তাই ৫ রানের আক্ষেপটা থাকছেই।

Friday, December 22, 2017

Boult destroys Windies

New Zealand`s Trent Boult (C) celebrates dismissing West Indies batsman Sheldon Cottrell during the second one-day international (ODI) cricket match against the West Indies at Hagley Oval in Christchurch on 23 December 2017. AFP

A career best seven for 34 by Trent Boult destroyed the West Indies as New Zealand wrapped up their one-day international series with a game to spare in Christchurch on Saturday.

Boult had three for six after his first three overs as the West Indies fell apart at the start of their innings after being set an imposing 326-run target.

The tourists struggled through to 121 before Boult finished off the tail to give New Zealand victory by 204 runs to go with their five-wicket win in the first ODI on Wednesday.

When Boult had finished off the West Indies top order, Lochie Ferguson plucked out the middle with three wickets in 10 deliveries, including Jason Mohammed and Rovman Powell with successive balls.

New Zealand, sent into bat first, posted a healthy 325 for six after an impressive final 10 overs by Henry Nicholls and Todd Astle which produced 103 runs.

Nicholls, given out lbw on 22 but reinstated on review when replays showed the ball would have missed the stumps, went on to be unbeaten on 83 at the close.

Astle went for 49 in the final over after the pair had put on a whirlwind 130 for the sixth wicket.

George Worker and Colin Munro gave New Zealand a flying start, reaching 50 off 40 deliveries before Sheldon Cottrell removed Munro (30) and his replacement Neil Broom (six) in quick succession.

Worker and Ross Taylor kept the run rate at better than a run-a-ball in a 58-run partnership until Worker, who had been dropped on seven, was removed by Ronsford Beaton for 58.

West Indies captain Jason Holder reduced New Zealand to 186 for five when he removed Tom Latham and Taylor in the space of 11 balls, leaving Nicholls and Astle to build the formidable target.

Nicholls’ 83 came off 62 balls and included two sixes and seven fours, while Astle faced 45 deliveries for his 49 but only reached the boundary three times.

For the West Indies, Sheldon Cottrell took three for 62.

The West Indies struggled throughout their reply with Shai Hope’s 23 their best performance with the bat.

The third and final match in the series will be on Tuesday at Hagley Oval where New Zealand have now won all seven ODIs they have played there.

New Zealand set West Indies 326-run target

Henry Nicholls, New Zealand, ODI, Cricket, West Indies, Christchurch


Henry Nicholls and Todd Astle led New Zealand to a comprehensive 325 for six batting first against the West Indies in the second one-day international in Christchurch on Saturday.

The pair put on 130 for the sixth wicket with Nicholls unbeaten on 83 while Astle, in only his second ODI, was out in the final over for 49.

George Worker and Ross Taylor also chimed in with half-centuries to propel New Zealand into solid position in a match the West Indies need to win to keep the series alive.

New Zealand won the first of three ODIs by five wickets on Wednesday.

Worker and Colin Munro gave New Zealand a flying start, reaching 50 in the seventh over before Sheldon Cottrell struck.

He removed Munro (30) and Neil Broom (six) in quick succession before Worker and Ross Taylor steadied the innings with a 58-run partnership at better than a run-a-ball pace.

Worker, who was dropped on seven by wicketkeeper Shai Hope, reached his second consecutive half-century against the West Indies and a personal best 58 before he fell to Ronsford Beaton.

West Indies captain Jason Holder reduced New Zealand to 186 for five when he removed Tom Latham and Taylor in the space of 11 balls, leaving Nicholls and Astle to rebuild the innings.

After a slow start, the pair launched into their work in the last 10 overs when New Zealand added 103 runs.

Nicholls’ 83 came off 62 balls and included two sixes and seven fours, while Astle faced 45 deliveries for his 49 but only reached the boundary three times.

For the West Indies, Sheldon Cottrell took three for 62.

Sunday, October 29, 2017

2nd T20: The final chance for Bangladesh


Big picture
After four weeks of mostly woeful cricket, Bangladesh finally showed some fight in the first T20I although they still lost the game by 20 runs. South Africa were thankful that some of their fringe performers came to the fore, notably their fast bowlers, and for the late impetus provided by Farhaan Behardien.
In an ironic twist, Bangladesh had hit more boundaries (21) than South Africa (20) on Thursday, but Andile Phehlukwayo, Robbie Frylinck, Dane Paterson and Beuran Hendricks managed to offset that by stringing together a lot of dot balls – 52 in total. An inexperienced bowling attack came under fire but did quite well to withstand it.
Bangladesh’s spinners performed just as well, especially Mehidy Hasan, who was instrumental in ensuring South Africa were kept to under 200. The skill he showed to dismiss a rampaging AB de Villiers, refusing him the room to free the arms, or the length to get under the ball should give Bangladesh some hope. But they need their batsmen to step up, especially the seniors. Otherwise they run the risk of returning home empty handed.
Form guide
South Africa: WLWLW
Bangladesh: LWLLL




In the spotlight
Robbie Frylinck‘s two wickets in his international debut should have come as a relief, having made his debut at the age of 33. One of them was Shakib Al Hasan’s who had just struck him for two fours. South Africa would be hoping Frylinck keeps his nerve if similar situations arise in the second game.
Soumya Sarkar finally showed some spark on this tour of South Africa, although some may argue he has come to the party far too late. Still through his quickfire 47, the opener showed why Bangladesh’s team management trusts him so much.
Team news
South Africa may keep their winning combination going, but considering they had earmarked the T20Is as a means to test the mettle of their fringe players, wicketkeeper Mangaliso Mosehle, fast bowler Dwaine Pretorius and left-arm wristspinner Tabraiz Shamsi might still make the XI.
South Africa (probable): 1 Quinton de Kock (wk)/ Mangaliso Mosehle, 2 Hashim Amla, 3 AB de Villiers, 4 JP Duminy (capt), 5 David Miller, 6 Farhaan Behardien, 7 Andile Phehlukwayo, 8 Robbie Frylinck, 9 Dane Paterson/ Dwaine Pretorius, 10 Beuran Hendricks, 11 Aaron Phangiso/ Tabraiz Shamsi
Liton Das or Nasir Hossain is likely to play after the BCB president Nazmul Hassan said they are likely to add an extra batsman to the line-up on Friday.
Bangladesh (probable): 1 Imrul Kayes, 2 Soumya Sarkar, 3 Sabbir Rahman, 4 Shakib Al Hasan (capt), 5 Mushfiqur Rahim (wk), 6 Mahmudullah 7 Nasir Hossain/Taskin Ahmed, 8 Mehidy Hasan, 9 Mohammad Saifuddin, 10 Shafiul Islam, 11 Rubel Hossain
Pitch and conditions
The first Test was held in Potchefstroom, which produced a lot of runs but also afforded a bit of turn. Conditions are expected to be similar for the T20I, with weather being forecast as dry.
Stats and trivia
-Farhaan Behardien hasn’t been dismissed in his last three innings against Bangladesh, though he has made only 76 runs.
-This will be the first T20 international held in Potchefstroom.
(ESPNcricinfo)

Wikipedia

Search results

Popular Posts