Showing posts with label Bangladesh. Show all posts
Showing posts with label Bangladesh. Show all posts

Friday, January 12, 2018

শুধু রাতের আধারেই নয়, দিনের আলোতেও চলে এ ব্যবসা!




ক্রমেই অসামাজিক কার্যকলাপের থিম সেন্টারে পরিণত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। দিন দিন আধুনিকতার সাথে সাথে বেড়ে চলেছে বিভিন্ন প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপ। শুধু রাতের আধারেই নয়! ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এ ব্যবসা চলছে দিনের আলোতেও। তবে এটা নতুন কিছু নয়!

এর মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে আবাসিক হোটেলের নামে দেহ ব্যবসা। রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস, গুলশান, বনানী লালমাটিয়া, দিলু রোড, ইস্কাটন রোড, সেন্ট্রাল রোড, মোহম্মদপুর, রামপুরা, শান্তিনগর, উত্তরা, কাকলী, কালাচাঁদপুর এলাকায় এ ব্যবসা চলছে বলে জানা গেছে। তবে ভিআইপি এলাকায় যৌন ব্যবসা পরিচালিত হয় বিশেষ গোপনীয়তার সাথে ভিন্ন আঙ্গিকে!

প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর কোন না কোন এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষকে আটক করছে পুলিশ।

সম্প্রতি তেমনি রাজধানীর বাড্ডায় ও খিলক্ষেত থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগে দালাল ও খদ্দেরসহ তিন মেয়েকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন ডিএমপি দোষীদের আদালতে পাঠালে আদালতে তাদের দোষ শিকার করলে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়ে আবরও ফিরে যায় পুরানো পেশায়।

এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ধরা পড়ার পর আমাদের সংস্লিষ্ট আইয়ের মাধ্যমে সামান্য কিছু জরিমানা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ভিকটিম যদি শিকার করে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করা হয়েছে সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধারা বা আইনের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে দেহ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পুলিশ কোন ধারায় মামলা দিবে তা ঠিক হয় মাসওয়ারার উপর।

Thursday, January 11, 2018

দুশো টাকা দিয়ে যৌনকর্মীর ঘরে গেলাম! এরপর…!!

দুশো টাকা দিয়ে যৌনকর্মীর ঘরে গেলাম! এরপর…!!


দুশো টাকা দিয়ে যৌনকর্মীর- বিহারের বেগুসরাই জেলার যৌনপল্লী বখরী এলাকায় গিয়ে এক যুবক দুশো টাকা তুলে দিয়েছিল এক দালালের হাতে। তারপরেই সেই যুবকের ‘পছন্দ’ করা যৌনকর্মীর ঘরে যাওয়ার অনুমতি মিলেছিল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই যুবকটি বেরিয়ে আসে সেই ঘর থেকে।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবারও সে ফিরে এসেছিল সেই ‘কোঠা’য়, এবারে সঙ্গে পুলিশ। যৌনকর্মীদের মধ্যে থেকে যুবকের ‘পছন্দ’ করা সেই মেয়েটি সামনে এগিয়ে এসেছিল।

এই পর্যন্ত পড়ে কি আপনাদের মনে হচ্ছে যে এটা কোনও চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট?একেবারেই নয়। এটা সম্পূর্ণ সত্যি ঘটনা। চমকের আরও বাকি আছে।

দিন কয়েক আগে বেগুসরাইয়ের ওই যৌনপল্লীতে যে মেয়েটিকে ‘পছন্দ’ করেছিল দালালের হাতে টাকা তুলে দেওয়া যুবকটি, সে তারই বোন।

বছর তিনেক আগে হারিয়ে যাওয়া বোনকে উদ্ধার করতেই ওই যুবক ‘খদ্দের’ সেজে হাজির হয়েছিল ওই যৌনপল্লীতে। বিহারের পুলিশ সেদিন দুজন মহিলাকে দেহব্যবসা থেকে উদ্ধার করে। অবশ্যই ভাইয়ের চালাকির সাহায্যে!

তাদেরই মধ্যে একজন বিহারেরই আরেক জেলা শিবহরের বাসিন্দা প্রতিমা (নাম পরিবর্তিত)। তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরে ফোনে বিবিসিকে জানিয়েছেন, “বছর তিনেক আগে অশোক খলিফা নামে এক ব্যক্তি সীতামাড়ী জেলা থেকে আমাকে ফুঁসছিলে বুখরীতে নিয়ে যায়।

তারপর থেকেই ওই কাজ করাতে বাধ্য করেছিল সে।” ছোট ছেলেকে নিয়ে তখন থেকেই বখরীর ওই যৌনপল্লীতে একরকম বন্দী জীবন কাটাতেন ওই মহিলা। বাইরের জগতের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখতে দেওয়া হতো না।

ওই মহিলা জানিয়েছেন, “সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার ঘরে এক ফেরিওয়ালা এসেছিল। আমি তাকে দেখেই চিনতে পেরেছিলাম – সে আমার বাপের বাড়ির এলাকার লোক।

সে বলেছিল যে আমাকে চিনতে পেরেছে। আমি তার মোবাইল নম্বরটা নিয়ে রেখেছিলাম। মাঝে ফোনে কয়েকবার আলোচনা করেছি তার সঙ্গে যে কীভাবে ওখান থেকে পালানো যায়, তা নিয়ে,”।

গ্রামে ফিরে এসে ওই নারীর আত্মীয়-স্বজনকে পুরো ঘটনা জানান ওই ফেরিওয়ালা। বাপের বাড়ির কয়েকজন ওই মহিলাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করার জন্য বেগুসরাইতে হাজির হন।

প্রতিমার ভাই মনোজ (নাম পরিবর্তিত) বিবিসিকে বলেন, “ফোনেই ওই ফেরিওয়ালা আমার বোনকে জানিয়ে রেখেছিল যে আমি আসছি। সেই মতো আমি অশোক খলিফা নামের ওই দালালের কাছে যাই খদ্দের সেজে।

দুশো টাকায় রফা হওয়ার পরে আমার সামনে দুজনকে হাজির করা হয়েছিল। চোখের ইশারা করে দিয়েছিলাম বোনকে। তার ঘরে গিয়ে বলে আসি যে পুলিশ নিয়ে আসছি একটু পরে।”

প্রতিমার বাবা আগেই বখরী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

এরপরে ভাই থানায় গিয়ে পুলিশ দল নিয়ে ফিরে আসেন। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় প্রতিমা এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বাসিন্দা আরেক নারীকে।

বখরী থানার ও সি শরৎ কুমার বিবিসিকে জানিয়েছেন, “প্রতিমাকে উদ্ধার করার পরের দিনই মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে আদালতে পেশ করা হয়। তারপরেই তার বাবা-মায়ের হেপাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগপত্রে নাম থাকা নাসিমা খাতুন নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে মূল অভিযুক্ত অশোক খলিফা এখনও ফেরার।

Wednesday, December 27, 2017

দেখতে হলে ফিটফাট, চলে আসুন সদরঘাট: শাজাহান খান




একসময় দেশের মানুষ বলত, “ওপরে ফিটফাট, মধ্যে সদরঘাট।” এখন বলব, “দেখতে হলে ফিটফাট, চলে আসুন সদরঘাট।”’ স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এ কথা বলেন। বুধবার সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজের নৌপরিবহন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যতম সমুদ্রসৈকত হচ্ছে কুয়াকাটা। কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সে পরিকল্পনার আওতায় কুয়াকাটায় কক্সবাজারের মতো মেরিন ড্রাইভ সড়ক তৈরি করা হবে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বিশাল একটি অ্যাকুরিয়াম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গলফ গ্রাউন্ড, সিনেপ্লেক্স, লাইট হাউস নির্মাণ করা হবে। এমনকি কুয়াকাটায় বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য এসব স্থাপনা নির্মিত হবে।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে নৌপথ ও নৌ বন্দরের উন্নয়নসহ আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তাঁর জন্যই পায়রা বন্দর হচ্ছে। এ জন্যই এ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন হবে। পায়রা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের মতোই উন্নত হবে। এ বন্দরকে কেন্দ্র করেই এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবন দেখার জন্য একমাত্র পথ ছিল খুলনা, যা ছিল সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। কুয়াকাটা থেকে চালু হওয়া এ সেবার মাধ্যমে পর্যটকেরা সরাসরি সুন্দরবনসহ পার্শ্ববর্তী দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে পারবেন। এতে পর্যটকদের সময় ও অর্থ—দুটিই সাশ্রয় হবে। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে ঘিরে নৌপথের উন্নয়ন করা হবে। বিশেষ করে আন্ধারমানিক নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
কুয়াকাটা-সংলগ্ন আলীপুর মৎস্য বন্দরে পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি পন্টুন স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী।
ওই অনুষ্ঠানে নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নৌমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করবে। শেখ হাসিনা ছাড়া যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে সারা দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তা ব্যাহত হবে।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাছুমুর রহমান, পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান, কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজের মালিক মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ।

গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজ উদ্বোধন
নৌপরিবহনমন্ত্রী ফিতা কেটে গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজের নৌযানের যাত্রীসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের নিয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবনে যেতে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার নৌযানটিতে তিন শ্রেণির আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি সোফা, সাধারণ চেয়ার ২০০টি, ৪টি সিঙ্গেল কেবিন এবং ১৫টি ডাবল কেবিন রয়েছে। এতে সোফা বা চেয়ারের জন্য যাত্রীপ্রতি ভাড়া দুই হাজার টাকা, সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া তিন হাজার টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় হাজার টাকা। এ ভাড়ার মধ্যেই যাত্রীদের জন্য সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার এবং বিকেলের জন্য নাশতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে তিন দিনের আলাদা একটি প্যাকেজও চালু করেছে গ্রিন লাইন। সে ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজে করে যাত্রী পরিবহন করা হবে। এরপর বরিশাল থেকে গ্রিন লাইনের নিজস্ব এসি বাসে করে যাত্রীকে কুয়াকাটায় নিয়ে আসা হবে। কুয়াকাটায় এসে যাত্রীদের নিজেদের ব্যবস্থাপনায় থাকতে হবে। পরের দিন যাত্রীদের কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন বেড়ানোর জন্য নেওয়া হবে। সেখান থেকে একইভাবে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এ প্যাকেজে সোফা বা চেয়ারের ভাড়া প্রতিজন ৫ হাজার ৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ৯ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কুকুরের অবাধ বিচরণ!




মঙ্গলবার বেলা ১১টা। হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডায়রিয়া ওয়ার্ড। ফটকের পাশেই খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মল। আর সেসব মল মুখে নিয়ে কুকুর ঢুকে পড়ছে ওয়ার্ডে। কুকুরের এমন অবাধ বিচরণ দেখা যায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে।

হাসপাতালটিতে এমন পরিবেশে চিকিৎসা চলছে দীর্ঘদিন থেকে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ওয়ার্ডে সব সময় কুকুর ঘুরে বেড়ালেও সেভাবে চিকিৎসকের দেখা মেলে না। সরেজমিনে শিশু ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডের সামনে দেখা যায়, আশপাশে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের মল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মলের পাশে ঘোরাফেরা করছে কুকুর। মাছি ভনভন করছে। ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গা না থাকায় মল উপেক্ষা করে সামনের জায়গাটিই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, সারা দিন কুকুরের দল ওয়ার্ডের ভেতরে দৌড়াদৌড়ি করে। রাতের বেলায় কুকুরগুলো বিছানার নিচে আশ্রয় নেয়। তাঁর ভাইয়ের মেয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। নাম জানাজানি হলে চিকিৎসা হবে না, এমন আশঙ্কা তাঁর। তাঁর কথার সূত্র ধরে শিশু বিভাগের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডের বিছানার নিচে কুকুরের অবাধ বিচরণের সত্যতা পাওয়া গেল। সে সময় কথা হয় সদর উপজেলার আখানগর গ্রামের আছিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই কুকুরগুলো এখানে ঢোকে। তাড়ালেও যায় না।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশু রোগীর অভিভাবক আনিছুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এত নোংরা ও অপরিষ্কার জায়গায় চিকিৎসার জন্য এলে আরও অসুস্থ হয়ে যেতে হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শামীম আরা নাজনীন বলেন, ‘এ সময়টাতে সব জায়গায় কুকুরের উপদ্রব দেখা যায়। হাসপাতালের কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছি কুকুরের ব্যাপারে যেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে জনবল কম থাকায় হয়তো তাঁদের চোখ এড়িয়ে কুকুর ওয়ার্ডে ঢুকে পড়তে পারে। আমরা চেষ্টা করব হাসপাতালের ক্যাম্পাসে যেন কুকুর ঢুকতে না পারে।’

জেলা সিভিল সার্জন আবু মো. খায়রুল কবীর বলেন, শুধু ওয়ার্ডে নয়, হাসপাতাল এলাকায় কুকুর ঘুরে বেড়ানোই রোগীর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিষয়টি তাঁরও নজরে এসেছে।

Sunday, December 24, 2017

বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিষিদ্ধ




আসন্ন ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোবাইলসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিষিদ্ধ করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। ২৯ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসি জানায়, বিজ্ঞাপনের শর্ত অনুসারে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস, বই-পুস্তক, ক্যালকুলেটর এবং হাতব্যাগ নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় হাতঘড়ি, পকেট ঘড়ি, ইলেকট্রনিকস ঘড়িও ব্যবহার করতে পারবেন না। সময় জানার জন্য পরীক্ষার হলে ঘড়ি সরবরাহ করবে কমিশন।

পরীক্ষার হলে কোনো প্রার্থীর কাছে পিএসসি কর্তৃক নিষিদ্ধ কিছু পাওয়া গেলে কমিশন ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ ভবিষ্যতে কমিশন কর্তৃক নেওয়া সব নিয়োগ পরীক্ষায় তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করবে।

বায়ুদূষণ ও শরীর পাতন




হেমন্ত পেরিয়েশীত এসেছে। তবে আবহাওয়ার বেয়াড়াপনায় শীতের অনুভূতি তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে মানুষের সর্দি-কাশি লাগতে দেখা যায়। তো চিকিৎসকেরা বলেন, এই সময়ে ধুলাবালি পরিহার করতে হবে। দরজা জানালা খুলে রাখতে হবে। মানে ঘরে নির্মল বায়ু ঢোকার ব্যবস্থা করা আরকি। চিকিৎসকদের এ ধরনের পরামর্শে ঢাকা শহরের যেকোনো বাসিন্দা হয়তো আহাম্মক বনে যেতে পারেন। মনে মনে হয়তো চিকিৎসকেরাও জানেন, এ ধরনের পরামর্শ দেওয়া কতটা অর্থহীন।

নির্মল বায়ু ঢাকা শহরে এখন সোনার হরিণ। নির্মল নিশ্বাস নেওয়ার জায়গা এই শহরে কোথাও নেই। তবে শীতকাল এলে তা আরও দুর্লভ হয়ে যায়। ঢাকার রাস্তায় কোথাও এক ফোঁটা জায়গা নেই, যেখানে আরাধ্য ‘নির্মল’ বায়ুর খোঁজ মেলে। সে হোক মহাসড়ক বা পাড়ার কোনো গলি। রাজধানী ঢাকার বাইরেও এর চেয়ে অবস্থা খুব একটা ভালো না। দেশের অন্যান্য শহরেও ধুলায় ধূসরিত সব রাস্তা।

বায়ুদূষণের কারণ হিসেবে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন, নিয়মনীতিহীন আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিস্তার, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যথেচ্ছ রাস্তা খোঁড়া, যানবাহনের সংখ্যা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্য ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়। তার মানে সমস্যার কারণ আমাদের জানা। তবু সমাধানে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

বায়ুদূষণের কারণে স্বাস্থ্যগত সমস্যার ব্যাপারে বারবার সতর্কবাণী দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে বলে
আমরা জানি। ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি ২০১৭’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বায়ুদূষণে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের বিপন্নতার চিত্র বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। তারপরও এ ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্যোগ নিতে দেরি করা হচ্ছে। সর্বশেষ জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের ‘ডেঞ্জার ইন দ্য এয়ার’ নামক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিবেদনে বায়ুদূষণের কারণে শিশুদের মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি ধুলার জন্ম নিয়মনীতিবিহীন আবাসন ও নির্মাণ প্রকল্পগুলোর কারণে। যথেচ্ছাচার ইট-বালুর স্তূপ রাস্তার ধারে ফেলা রাখা হচ্ছে। তা থেকে ধুলা উৎপন্ন হচ্ছে। বাসাবাড়ির গলিতেও একই অবস্থা। যেখানে নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে, সেখানেই ধুলার সাগর। আমি যেখানে থাকি সেই ভবনের পাশে নতুন দুটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। যথারীতি বালুর স্তূপ রাস্তায় গড়িয়ে চলছে বহুদূর পর্যন্ত। আশপাশের সব বাসাবাড়ি ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে। এই চিত্র সব জায়গায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হবে, কংক্রিটের নগরে মাটির ছোঁয়া দিতেই এই ব্যবস্থা। শহরে গ্রামীণ আবহ, সে তো ভালো কথা! কিন্তু নাগরিক জীবনে যে দুর্বিষহ যন্ত্রণা সৃষ্টি করছে এই ধুলা, তা আর গ্রামীণ থাকছে না। অবস্থা এখন গ্রাম্যতার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অথচ ভবন নির্মাণের নির্ধারিত নিয়ম আছে। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালায় পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে এ ধরনের কাজ করার কথা বলা হয়েছে। নির্মাণস্থল এবং তার চারপাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। নির্মাণকাজের মাধ্যমে জনসাধারণের কোনো ধরনের বাধা, বিপত্তি বা অসুবিধা সৃষ্টি না করার বিধি রয়েছে। আবাসিক এলাকায় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত নির্মাণকাজের মাধ্যমে কোনো আওয়াজ যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি দিন বা রাতের কোনো সময়েই নির্মাণ স্থানে পাথর বা খোয়া ভাঙানোর মেশিন ব্যবহারও নিষিদ্ধ। স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যেন নির্মাণ প্রকল্পের দ্রব্যাদি ও জিনিসপত্র জনপথে কিংবা ফুটপাতে রাখা না হয়। কিন্তু এসবের কিছুই মানার কোনো বালাই দেখা যায় না।

এখন কথা হলো, এই বিধি তৈরি করে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তার বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? এমনিতেই এ দেশে আইন না মানার একটা সহজাত স্বভাব রয়েছে। যদি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে এমন বিধি বাস্তবায়ন খোয়াবই থেকে যাবে। আর যদি বিষয়টি হয় জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য  গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে সে ক্ষেত্রে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ না করাটা সভ্যতাবিরোধী।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্মল বায়ু সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত। এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণেও কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট তৈরি, যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ফিটনেস পরীক্ষা, নির্মাণকাজের সময় চারপাশ ঢেকে রাখা ও নিয়মিত পানি ছিটানো, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে পরিবহন করা, রাস্তা খোঁড়া এবং এ ধরনের কার্যক্রমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানটি যতদূর সম্ভব ঢেকে রেখে নিয়মিত পানি ছিটানো, বায়ুদূষণকারী শিল্পকারখানাগুলোয় বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাড়ির চারপাশে বনায়ন করা।

ওপরের পরামর্শগুলো ২০১৫ সালের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির বদল যে ঘটেনি, তা বুঝতে গবেষণার দরকার পড়বে না। রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় যেকোনো মানুষ তা হাড়ে হাড়ে টের পায়। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর একটি সমন্বয় সভা হয়েছে। ২০১৫ সালে গণবিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভার ১১ দফা করণীয় নির্ধারণের মিল রয়েছে। কিন্তু এসব পরামর্শ দিলেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। শক্ত হাতে এসব আইনের বাস্তবায়ন না করলে জনস্বাস্থ্য আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।

উদীয়মান অর্থনীতির এই দেশে সুস্থ জনবল তৈরি এক অপরিহার্য কাজ। বায়ুদূষণের কারণে শুধু যে মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে তা নয়, জীবনও হচ্ছে হুমকিগ্রস্ত। পরিবেশ রক্ষার প্রতি আগ্রহ এই দেশে ততটা দেখা যায় না, যতটা রাজনীতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে রয়েছে। এ-সংক্রান্ত খবরেও তেমন আগ্রহ থাকে না। কিন্তু পরিবেশ তো বিমূর্ত কোনো বিষয় নয়! আমাদের চারপাশই আমাদের পরিবেশ। তা আক্রান্ত হলে আমরাও আক্রান্ত হব। রাস্তার ধুলা তো শুধু রাস্তায় থাকছে না, তা আমাদের ফুসফুস, মস্তিষ্কও আক্রান্ত করছে। তবু কেন আ

চালের দামে গরিব হলো আরও ৫ লাখ মানুষ



শুধু চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই গত কয়েক মাসে ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ গরিব হয়ে গেছে। আগে তাঁরা দারিদ্র্যসীমার ওপরে ছিল, এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। বন্যার পাশাপাশি সময়মতো আমদানি না হওয়ার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে গত কয়েক মাসে হঠাৎ করে চালের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এর ফলে দশমিক ৩২ শতাংশ দারিদ্র্য বেড়েছে।

গতকাল শনিবার বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং বা সানেমের বাংলাদেশের অর্থনীতির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনায় এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সানেম। এতে বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। এ সময় সানেমের অন্য গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। সানেম বলছে, ২১ ডিসেম্বরের হিসাবে চিকন চালের দাম ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা চালের দাম ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এটা সত্যি, চালের দাম বাড়লে গরিব মানুষের কষ্ট বাড়ে, অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। কেননা দারিদ্র্যসীমার একটু ওপরে থাকা মানুষ খাবার কিনতে যত টাকা খরচ করেন, এর ৮০ শতাংশই চাল কেনায় খরচ করতে হয়। তাত্ত্বিক দিক থেকে সানেমের প্রতিবেদন হয়তো ঠিকই আছে। দেখতে হবে, ৩ কোটি ৮০ লাখ গরিব লোকের মধ্যে সোয়া ৫ লাখ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। চালের দাম কমে গেলে তারা আবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে যাবে। এটা তেমন উদ্বেগজনক নয়। তিনি বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়েছে। ১০ টাকায় ১ কেজি চাল কেনার সুযোগ, কম মূল্যে খোলাবাজারে চাল বিক্রিসহ নানা উদ্যোগ আছে।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রায়হান বলেন, আমদানি করার পরও চালের দাম বেড়েছে। এটা বেশ উদ্বেগজনক। বন্যার কারণে চালের উৎপাদন কম হয়। তাই চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরিব মানুষ আয় বাড়িয়ে তা সমন্বয় করার সময় পায়নি। এতে তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, সময়মতো চাল আমদানি করা যায়নি। চট্টগ্রাম বন্দরে চাল আসার পর খালাস করে বাজার পর্যন্ত যেতে অনেক সময় লেগেছে। পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা ছিল। এতে চালের দাম আরও বেড়েছে।
সানেম আশঙ্কা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়ছে। এতে সামনের দিনগুলোতে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসে ২ হাজার ৯১২ কোটি টাকার চাল আমদানি করা হয়েছে। গতবার একই সময়ে মাত্র ৩৫ কোটি টাকার চাল আমদানি করা হয়েছিল। এই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যত টাকার চাল আমদানি করা হয়েছে, তা গত পুরো অর্থবছরের চালের আমদানি ব্যয়ের প্রায় ৫ গুণ।
এদিকে গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, নাজিরশাইল চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬৩ থেকে ৬৮ টাকা। আর মিনিকেটের দাম ৫২ থেকে ৫৮ টাকা। ৪৪ টাকার কমে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক খাত নিয়ে সানেম বলছে, ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারি ও খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া বেশ উদ্বেগজনক। মূলত দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এটা হয়েছে। সানেম মনে করে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের চারজন সদস্যকে টানা ৯ বছর ধরে সদস্য থাকার নীতি অনুমোদন দেওয়ায় তা ব্যাংকিং খাতকে আরও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক খাতের অপরাধের দ্রুত বিচার করা প্রয়োজন।
২০১৮ সালে অর্থনীতির জন্য পাঁচটি চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করে সানেম। এগুলো হলো, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বেসরকারি বিনিয়োগে আরও শ্লথগতি; ক্রমবর্ধমান খাদ্য মূল্যস্ফীতি; টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এগিয়ে যাওয়া, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ এবং ব্যাংক খাত পরিচালনায় অনিয়মের প্রতিকার।

একদিন আমরা যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করব




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ধীরে ধীরে ‘বায়ার নেভি’ থেকে ‘বিল্ডার নেভি’তে পরিণত করা হবে এবং আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ধীরে ধীরে “বায়ার নেভি” থেকে ‘বিল্ডার নেভি”তে পরিণত করা হবে এবং একদিন আমরা যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করব ইনশা আল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ মিডশিপম্যান-২০১৫ পরিদর্শন এবং বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে দিচ্ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে এসেই দেশে নৌবাহিনীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় খুলনা শিপইয়ার্ড এবং নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মিত হচ্ছে। গত মাসে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত দুটি সাবমেরিন-বিধ্বংসী লার্জ পেট্রল ক্র্যাফট ‘দুর্গম’ ও ‘নিশান’ নৌবহরের কমিশন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডে আধুনিক ফ্রিগেট তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধানমন্ত্রী ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে সর্বদা ঊর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্য ও অধস্তনদের সহমর্মিতা প্রদর্শন করবে। চেইন অব কমান্ড মেনে চলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তিনি পাসিং আউট ক্যাডেটদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তিন বছরে প্রশিক্ষণে সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী ক্যাডেটকে ‘সোর্ড অব অনার’ প্রদান করেন।

২০১৫ ব্যাচের সোহানুর রহমান সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সোর্ড অব অনার লাভ করেন।ৎ

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মিডশিপম্যান সীমান্ত নন্দী আকাশ ‘নৌবাহিনীপ্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার অ্যাক্টিং সাব-লেফটেন্যান্ট এ জেড এম নাসিমুল ইসলাম ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ গ্রহণ করেন। পরে প্যারেড কমান্ডার নবীন অফিসারদের শপথগ্রহণ করান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছালে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ তাঁকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বহির্বিশ্বে এখন পথিকৃৎ ধরা হয়। বর্তমান সরকার সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়াল সি, ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশের সম্পদের অধিকার লাভ করেছি।’

তাঁর সরকারের সময়ে নৌবাহিনীকে একটি অত্যাধুনিক ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জলসীমায় নজরদারি বাড়াতে আরও মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার ক্রয় প্রক্রিয়াধীন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে অ্যাভিয়েশন সুবিধাসংবলিত নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ নৌঘাঁটি ও ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নৌঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সাবমেরিনের সুষ্ঠু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জেটি-সুবিধা প্রদানের জন্য কুতুবদিয়ায় একটি সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, সন্দ্বীপ চ্যানেলে জাহাজ বার্থিং সুবিধাসংবলিত ফ্লিট সদর দপ্তরের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে সমুদ্র এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে।

সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন সময় দেশে ও পার্শ্ববর্তী দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং যেকোনো ক্রান্তিকালে নৌবাহিনীর সদস্যদের নিবেদিতপ্রাণ অংশগ্রহণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে গৌরবান্বিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসায় নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরিতে নৌবাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতির পিতার ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণকে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্ট হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে জাতি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে আরও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

শীতকালীন এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২১ জন নারী, একজন শ্রীলঙ্কান, মালদ্বীপের একজনসহ ৯২ জন মিডশিপম্যান এবং ১২ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ১০৪ জন কমিশন লাভ করেছেন।

লক্ষ্মীপুরে আ.লীগে আত্মীয়তাই শেষ কথা





নেতা নির্বাচনে আত্মীয়তার সম্পর্কই শেষ কথা লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগে। প্রভাবশালী দুটি পরিবারের আত্মীয়স্বজনই নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় রাজনীতি। একটি পরিবারের প্রধান লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তাঁর ছেলে কে এম সালাহ উদ্দিন (টিপু) জেলা যুবলীগের সভাপতি।

আবার সালাহ উদ্দিনের আপন মামাতো বোনের স্বামী নুর উদ্দিন চৌধুরী লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নুর উদ্দিনের পরিবারের আরও ছয়জন জেলা কমিটিতে রয়েছেন। তাঁর বোনের ভাশুর হারুনুর রশিদ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। দুই ফুফাশ্বশুর এম এ তাহের ও ইসমাইল খোকন সদস্য, বোনের স্বামী মামুনুর রশিদ, ফুফা মিজানুর রহমান এবং মামা কবির পাটোয়ারীও জেলা কমিটির সদস্য।

দলীয় সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ নুর উদ্দিন চৌধুরী হাতে। যুবলীগ চলছে সালাহ উদ্দিনের ইশারায়। তিনি সদর উপজেলা পরিষদেরও চেয়ারম্যান।

২০১৫ সালের ৩ মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। এতে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন এম এ তাহেরসহ চারজন। সাধারণ সম্পাদক পদে নুর উদ্দিন চৌধুরীসহ পাঁচজন প্রার্থী হন। শ্বশুর-জামাই (তাহের ও নুর উদ্দিন) একজোট হয়ে সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রার্থী হন। পরে কেন্দ্রের নির্দেশে গোলাম ফারুককে (পিংকু) সভাপতি এবং নুর উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। তবে দলীয় কর্মকাণ্ডে সভাপতি খুব একটা সক্রিয় নন। সাধারণ সম্পাদকের ওপরই কার্যত সবকিছু নির্ভর করে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত বছর জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাহের ও নুর উদ্দিনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নুর উদ্দিন প্রার্থী হলে তাহেরের স্ত্রী নাজমা তাহেরও প্রার্থী হন। দুজনই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে দল থেকে মো. শাহজাহানকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখনো রয়ে গেলেও তা কর্মী পর্যায়ে ছড়ায়নি।

দুই পরিবারের বাইরে জেলা কমিটিতে অন্য যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মতামত দলে তেমন গুরুত্ব পায় না। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে চান না তাঁরা। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, অনেক নেতা জনগণের জন্য রাজনীতি করতে আসেননি। তাঁরা নিজের জন্য করতে এসেছেন। জনগণের জন্য রাজনীতি না করার কারণে লক্ষ্মীপুরে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। দলের মধ্যে কারা নিজের জন্য রাজনীতি করছেন, এটি স্পষ্ট করেননি তিনি।

জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ উদ্দিন বলেন, একটা সময় লক্ষ্মীপুর বিএনপির ঘাঁটি ছিল। তাঁদের পরিবারের লক্ষ্য এই জেলাকে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে গড়ে তোলা। দল যখন সরকারে ছিল না তখনো তাঁদের পরিবার মাঠে ছিল, এখনো রয়েছে। এ কারণে তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়দের অনেকে জেলার বিভিন্ন কমিটিতে রয়েছেন।

অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার আগেই তাঁর আত্মীয়েরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন। একসময় লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল। তিনি নেতৃত্বে আসার পর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যানসহ কমপক্ষে ৫০ জন দল থেকে নির্বাচিত হন। দল এখন সুসংগঠিত বলে দাবি করেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুহুল আমিনের বর্তমান কমিটিতে জায়গা হয়নি। অথচ ছাত্রলীগ থেকে ধাপে ধাপে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। একসময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। ২০০৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ছিলেন প্রচার সম্পাদক। তিনি বলেন, সুসময়ে দলে তাঁর স্থান হয়নি। এ নিয়ে কারও প্রতি ক্ষোভ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের লোকজন দলের বিভিন্ন পদে থাকলে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়।

জেলা ছাত্রদল চালাচ্ছেন ২০ বাবা



লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাবারা। প্রায় সাত বছর আগে গঠিত জেলা কমিটির সভাপতি, তিন সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ২০ জন নেতা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘর-সংসার করছেন। ১৫১ সদস্যের কমিটির আরও অন্তত ৩০ জন ব্যবসা ও ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই কমিটির কতজনের বর্তমানে ছাত্রত্ব রয়েছে তা বলতে পারেননি বিবাহিত সভাপতি।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হারুনুর রশিদ ১০ বছর আগে বিয়ে করেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সাত বছর ধরে ঠিকাদারি করছেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম (মামুন) পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন। তিনিও এক সন্তানের বাবা। এখন ওষুধের ব্যবসা করছেন।

জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ফয়েজ আহম্মেদ বিয়ে করেছেন ১০ বছর আগে। তাঁর বড় মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। অন্য দুই সহসভাপতি বদরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান ২০১৫ সালে বিয়ে করেন। যুগ্ম সম্পাদক শামছুর রহমান গত বছর বিয়ে করেন। এ ছাড়া কমিটির আরও ১৪ জন নেতা বিয়ের পর ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

বিবাহিতদের বাইরে অন্য নেতাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। এর মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক এম মমিনের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে ছয় বছর আগে। এখন ব্যবসা করছেন তিনি।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হারুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, কমিটির অনেক নেতাই বিবাহিত এটি সত্য। কিন্তু তাঁরা দলের সব কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম বলেন, যখন তিনি দায়িত্ব পান তখন বিয়ে করেননি। কমিটির বেশির ভাগ সদস্যের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুনদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন তাঁরা।

ছাত্রদলের অনুমোদিত কোনো গঠনতন্ত্র নেই। একটি খসড়া গঠনতন্ত্র থাকলেও তাতে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এতে বলা আছে, মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা ছাত্রদলের সদস্য হতে পারবেন। তবে বিবাহিত, ৪০ পেরিয়ে যাওয়া এবং ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়া কাউকে নেতৃত্বে না আনার অলিখিত নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা চলে। জেলা কমিটির মেয়াদ তিন বছর। তবে লক্ষ্মীপুর ছাত্রদলের কমিটি চলছে প্রায় সাত বছর ধরে।

ছাত্রদেরই ছাত্রদল করা উচিত জানিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা বিবাহিত তাঁদের ছাত্রদল করা ঠিক নয়। লক্ষ্মীপুর জেলার ছাত্রদলের কমিটি সবচেয়ে পুরনো। জেলা ছাত্রদলের কার্যকারী কমিটির শীর্ষনেতারা অনেকেই বিবাহিত এটি জানেন তাঁরা। কিন্তু নানা কারণে সেখানে নতুন কমিটি করা যায়নি। ছাত্রত্ব রয়েছে এবং বিবাহিত নয় এমন নেতাদের দিয়ে আগামী বছরের শুরুতে নতুন কমিটি করা হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির তিনজন দায়িত্বশীল নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদলের নেতারা থাকবেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে তাঁরা কাজ করবেন। কিন্তু জেলা ছাত্রদলের আদু ভাই নেতারা ব্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে। পদ আকড়ে ধরে রাখতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা।

অ্যাপলের বিরুদ্ধে ঠকানোর অভিযোগে মামলা




আপনি কি পুরোনো মডেলের আইফোন ব্যবহার করছেন? তবে নিশ্চয়ই অনেক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে গিয়ে ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার চেয়ে কম পাচ্ছেন? অনেকেই অভিযোগ করছেন, পুরোনো আইফোনের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদের নামে অ্যাপল ইচ্ছে করেই এর গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কারণ অ্যাপল চাইছে সবাই তাদের নতুন আইফোন কিনুক।

অভিযোগের বিষয়টি মেনে নিয়েছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। ফোনের গতি কমে যাওয়ায় মেসেজ লিখতে ও পাঠাতে দেরি হচ্ছে। ফোনে মেইল লোড হতে সময় বেশি লাগছে। অ্যাপলের দাবি, তারা এ কাজ করেছে মূলত একটি কারণে। অনেক দিন ধরে ব্যবহৃত ব্যাটারির প্রভাবে হুট করে ফোন যাতে বন্ধ না হয়, তা ঠেকাতে। পুরোনো ফোন যাতে দ্রুত কাজ না করে ধীরে ধীরে কাজ করে, সে বিষয়টির জন্য অ্যাপল কিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

গত বুধবার অ্যাপল দাবি করেছে, এটি মূলত ফোনকে সুরক্ষা দিতেই করা হয়েছে। ফোনের বয়স হয়ে গেলে এর লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি নতুনের মতো দক্ষতায় প্রসেসিং চাহিদা মেটাতে পারে না। এতে ফোন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফোন যাতে এভাবে বন্ধ না হয়, এ জন্য সফটওয়্যার হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে ফোনের কার্যক্ষমতা ধীরগতির হবে।

অ্যাপলের এ স্বীকারোক্তিমূলক ব্যাখ্যাকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। আইফোন ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, অ্যাপল পরিকল্পিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আইফোন বাজারে আসায় আগের ফোনগুলোতে সমস্যা তৈরি করে নতুন ফোনে আগ্রহ সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য।

স্বভাবতই অ্যাপলের ব্যাখ্যা অনেকের পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা স্টেফান বোগদানোভিচ ও ডাকোটা স্পিজ অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, আইফোনের গতি কমিয়ে দিতে অ্যাপল কখনো তাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। স্টেফান বোগদানোভিচ ও ডাকোটা স্পিজ দুজনই আইফোন ৭ ব্যবহার করেন। তাঁদের দাবি, গতি কমিয়ে দেওয়ায় আইফোন ব্যবহারে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। অ্যাপলের এ সমস্যার কারণে তাঁরা অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ জন্য ক্ষতিপূরণ চান তাঁরা।

এ মামলায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের সব পুরোনো আইফোন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

অ্যাপল কর্তৃপক্ষ মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

পর্যটকের পেছনে ২০০ ছিনতাইকারী





ভরা মৌসুমে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক, হিমছড়িসহ দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের জন্য বিপৎসংকুল হয়ে উঠেছে। ওত পেতে থাকছে ছিনতাইকারীরা। সুযোগ বুঝে কেড়ে নিচ্ছে পর্যটকদের মুঠোফোন, টাকা, ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরে অন্তত ২৫টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্যটকেরা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় মামলা হয়নি।

১৪ ডিসেম্বর দুপুরে কক্সবাজার শহরের ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আবু তাহের নামের ফেনীর এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের কলাতলী, লারপাড়া ও রুমালিয়ারছড়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে তিনটি। এই তিন ঘটনায় মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক প্রভাস চন্দ্র ধর প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৫ সালে জেলা পুলিশের করা তালিকায় শহরে ছিনতাইকারীর সংখ্যা ছিল ১২৮। এখন এই সংখ্যা প্রায় ২০০। ১৯টি দলে ভাগ হয়ে তারা ছিনতাই ও লুটপাট চালায়। ছিনতাইকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি রোহিঙ্গা ঢলকে দায়ী করেন। প্রভাস চন্দ্র ধর বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। স্থানীয় ছিনতাইকারীরা তাদের ব্যবহার করে।

পুলিশের তথ্য অনুয়ায়ী শহরের ২৩টি স্থানে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা রয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়তলী, জাম্বুর দোকান, কালুর দোকান, বৌদ্ধমন্দির এলাকা, গুলদীঘির পাড়, কলাতলী মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, রুমালিয়ারছড়া, সাহিত্যিকা পল্লী, লালদীঘির পাড় ও সমিতিপাড়া ছিনতাইপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকা দিয়ে পর্যটকেরা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও বিপণিকেন্দ্রে আসা-যাওয়া করেন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ছিনতাইকারীদের অনেকে দিনের বেলায় টমটম ও অটোরিকশা নিয়ে সমুদ্রসৈকত ও কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় অপেক্ষা করে। গাড়িতে পর্যটক তুলতে পারলে দলের অন্য সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। তারপর পথে নিরিবিলি কোনো এলাকায় সুযোগ বুঝে ছিনতাই করে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আড়াই কিলোমিটার লম্বা বাইপাস সড়কে ছিনতাইকারীরা ওত পেতে থাকে। এই সড়কে বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পরই এলাকাটি অন্ধকারে ডুবে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগায় ছিনতাইকারীরা।

সপ্তাহখানেক আগে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হন শহরের খুরুশকুল এলাকার বাসিন্দা নয়ন পাল (২০)। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় বাস টার্মিনাল থেকে টমটমে চড়ে লালদীঘির পাড়ে আসার সময় যাত্রীবেশে থাকা দুজন অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। ঝামেলা এড়াতে তিনি থানায় মামলা করেননি।

এ ছাড়া কয়েক দিন আগে শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীরা প্রবাসী মো. খালেককে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর আগে একই এলাকায় রবিউল নামের এক দোকান কর্মচারীকে মারধর করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। তাঁরা কেউই মামলা করেননি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ছাড়াও সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের ধরতে অভিযান চলছে। পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় গত বুধবার রাতে শহরের মোহাজেরপাড়া এলাকা থেকে নেজাম উদ্দিন নামের এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক মাসে ২০ থেকে ২৫ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে তাদের অনেকে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।

তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী প্রথম আলোকে বলেন, সৈকতের লাবণী থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকে ট্যুরিস্ট পুলিশের দল। এ ছাড়া সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী পর্যন্ত ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল থাকে।

কক্সবাজার ভ্রমণে আসা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার স্কুলশিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর মেরিন ড্রাইভ সড়কে চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেখানে পুলিশ থাকে না।

ডিসেম্বরের এই সময়টায় কক্সবাজারে এখন প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখের মতো পর্যটক সৈকতে অবস্থান করেন বলে জানান কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ। তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন শহরে প্রায় দেড় লাখ পর্যটক থাকবেন। পর্যটকদের ঢল শুরু হওয়ায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বাইপাস সড়ক ও কলাতলী এলাকায় ছিনতাইকারীর তৎপরতা বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে আরও সজাগ থাকা দরকার।

বলুন তো ক্রমিক সংখ্যা তিনটি কী?




ক্রমিক সংখ্যা তিনটি বের করার আগে আসুন গণিতের কতগুলো সাধারণ কিন্তু বেশ মজার বিষয় দেখি। যেমন ধরুন, প্রশ্ন করলাম, ১০০-এর ১৫% আর ১৫-এর ১০০% কেন সমান হয়? অর্থাৎ, ক-এর খ% ও খ-এর ক% কেন সব সময় সমান? এর উত্তর আমরা কীভাবে বের করব? খুব সহজ। কারণ, ক-এর খ% = (ক) × খ/১০০ = ক × খ/১০০। অন্যদিকে, খ-এর ক% = (খ) × ক/১০০ = খ × ক/১০০ = ক × খ/১০০। দুটি হিসাব একই। সে জন্যই সমান। এখন দেখুন, ১০০-এর ১৫% = ১০০ × ১৫/১০০ = ১৫। এবং ১৫-এর ১০০% = ১৫ × ১০০/১০০ =১৫। দুটিই সমান।

এবার একটি সহজ সমস্যা দেখুন। তিনটি ক্রমিক বিজোড় সংখ্যার যোগফল ১৫ এবং এই যোগফল মাঝখানের বিজোড় সংখ্যাটির ৩ গুণ। সংখ্যা তিনটি কত? আমরা খুব সহজে এর উত্তর বের করতে পারি। কারণ, বলেই তো দিয়েছি, যোগফল, মানে ১৫ হলো মাঝের সংখ্যাটির ৩ গুণ। সুতরাং মাঝের সংখ্যাটি = ১৫/৩ = ৫। সুতরাং সংখ্যা তিনটি ৩, ৫ ও ৭। এদের যোগফল ১৫ এবং মাঝের সংখ্যা ৫, যার ৩ গুণ = ১৫। কিন্তু গাণিতিক হিসাবে আমরা বেশ কঠিন করেও এর সমাধান বের করতে পারি। যেমন: মনে করি, ‘ক’ একটি বিজোড় সংখ্যা। সুতরাং, ক্রমিক তিনটি বিজোড় সংখ্যা হলো, (ক - ২), (ক), (ক + ২)। এদের যোগফল = ৩ক = ১৫। তাহলে ক = ৫। সুতরাং, সংখ্যা তিনটি হলো ৩, ৫ ও ৭।

এ সপ্তাহের প্রশ্ন

এমন তিনটি ক্রমিক সংখ্যা বের করুন, যাদের যোগফল ও গুণফল অভিন্ন, অর্থাৎ একই।

আপনাদের উত্তর অনলাইনে মন্তব্য আকারে অথবা ই-মেইলে ( quayum@gmail.com) পাঠাতে পারেন।

গত সপ্তাহের প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্নটি ছিল, দুটি সংখ্যার বর্গের বিয়োগফল একটি বর্গসংখ্যা। সংখ্যা দুটি কত?

প্রায় সবাই সঠিক উত্তর দিয়েছেন। ধন্যবাদ।

উত্তর: সংখ্যা দুটি ৫ ও ৩। এদের বর্গের বিয়োগফল (২৫ - ৯) = ১৬ = (৪)২, একটি বর্গ সংখ্যা। এ রকম সংখ্যা আরও অনেক আছে। যেমন: ৫ ও ৪। এদের বর্গের বিয়োগফল (২৫ - ১৬) = ৯ = (৩)২

কীভাবে উত্তরটি বের করলাম

প্রথমে শুরুর দিকের বর্গসংখ্যাগুলো পরীক্ষা করে দেখি। ওগুলো হলো ১, ৪, ৯, ১৬, ২৫, ৩৬ ... ইত্যাদি। এবার পরীক্ষা করে দেখলেই বোঝা যায় সংখ্যা দুটি ৫ ও ৩। এদের বর্গসংখ্যা দুটি যথাক্রমে ২৫ ও ৯। তাদের বিয়োগফল ১৬, যা ৪-এর বর্গ। ইত্যাদি।

তবে আমরা এভাবেও সমাধান বের করতে পারি: মনে করি ক, খ ও গ তিনটি রাশি, যাদের মধ্যে সম্পর্ক হলো (ক)২ - (খ)২ = (গ)২

এখন ক ও খ-এর ভিন্ন ভিন্ন মান বসাই। প্রাপ্ত ফল যদি পূর্ণবর্গ সংখ্যা হয়, তাহলেই আমরা একটি উত্তর পাব। যেমন: ক = ১৩ ও খ = ১২ হলে, (ক)২ - (খ)২ = (১৩)২ - (১২)২ = (১৬৯ - ১৪৪) = ২৫ = (৫)২। সুতরাং, সংখ্যা দুটি ১৩ ও ১২। ইত্যাদি।

ঢাকার আতঙ্ক ‘ছিনতাই’




ভোরবেলার ফাঁকা রাস্তা কিংবা মধ্যদুপুরের ব্যস্ত সময়, ঢাকার বাসিন্দারা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন যখন-তখন। সিসি ক্যামেরা, যানবাহনের ডিজিটাল নম্বরপ্লেট—এসব প্রযুক্তিতেও শনাক্ত হচ্ছে না ছিনতাইকারী বা তাদের ব্যবহৃত যানবাহনগুলো। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। থানা-পুলিশের মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই।

হেঁটে, রিকশায়, বাসে বা নিজের গাড়িতে—যেভাবেই আপনি চলেন না কেন, ছিনতাইকারীদের নাগালের বাইরে যাওয়া কঠিন। গুলি করে বা ছুরি মেরে, কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে এসে রিকশাযাত্রীদের ব্যাগ ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁচকা টানে পড়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ভাড়া করা অটোরিকশায় খাঁচা লাগানোর পরে এখন ছাউনি কেটে নেওয়া হচ্ছে মুঠোফোন বা ব্যাগ। যানজটপ্রবণ ও জনবহুল এই শহরে মানুষ ঠিকমতো চলতে না পারলেও ছিনতাইকারীরা ঠিকই সবকিছু লুট করে পালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা ধরা পড়ছে খুব কমই ।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজের গাড়িতে বসে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা শাহীনা আক্তার ও তাঁর মেয়ে নাতিকা রিজওয়ানা। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিজের গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন। জসীমউদ্‌দীন সড়কে পৌঁছামাত্র চার মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন যুবক গাড়ির সামনে দাঁড়ায়। তারা শাহীনা ও নাতিকাকে গুলি করে ৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যানজটের মধ্যেও পালিয়ে যায়। এরপর নয় মাস পেরিয়ে গেছে, ছিনতাইকারীরা শনাক্ত হয়নি। টাকা উদ্ধার তো দূরের কথা। শাহীনার ছোট ভাই ফরহাদ হোসেইন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর র‍্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ, থানার পুলিশ—সবাই এসেছিল। কিন্তু এরপর তাঁরা আর কিছু জানেন না। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের (উত্তর) সহকারী কমিশনার মহরম আলী বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করা হয়েছে, ক্লুই পাওয়া যায়নি।’

শুধু শাহীনা নন, দীর্ঘদিন রাজধানীতে থেকে ছিনতাইয়ের শিকার হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ঢাকার রাস্তাগুলোতে ‘ছিনতাই’  নাগরিক আতঙ্কের অন্যতম কারণ হলেও পুলিশের খাতায় এর প্রতিফলন নেই। পুলিশের হিসাব বলছে, গত চার বছরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমাগত কমছে।

ছিনতাই কমছে!

পুলিশের হিসাবে ছিনতাই ক্রমাগত কমছে। তবে মানবাধিকারকর্মী, ভুক্তভোগীসহ অনেকেই এই হিসাবের সঙ্গে একমত নন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ২৫৬টি, ২০১৫ সালে ১৭২টি এবং ২০১৬ সালে ১৫০টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। আর এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মামলা হয়েছে মাত্র ১৪২টি।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মুহা. নূরুল হুদা মনে করেন, অপরাধ কমে গেছে, এটা বলার জন্য পরিসংখ্যান কম দেখানোর ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মামলা নিতে হবে এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষ যখন দেখবে পুলিশের কাছে গিয়ে সে প্রতিকার পাচ্ছে, তখন পুলিশের ওপর তাদের আস্থা বাড়বে। এতে অপরাধও কমে আসবে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাই কমেছে—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটা মামলার সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যাবে না। অপরাধের সংখ্যা কম দেখানোর প্রবণতা থানার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছে।

গত চার দিনে রাজধানীতে ৩০ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁদের ২৪ জনই বলেছেন, কোনো না কোনো সময়ে তাঁরা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তাঁরা জানান, পুলিশ খোয়া যাওয়া জিনিসপত্র তাঁদের হাতে তুলে দেবে—এমনটা ভাবতেই পারেন না। উপরন্তু থানায় মামলা করলে ‘হেনস্তার’ শিকার হওয়ার ভয় রয়েছে তাঁদের। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে কেউ কেউ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আটজন জানিয়েছেন, মামলা করতে চাইলেও পুলিশ নেয়নি।

পুলিশ মামলা নেয় না—এই অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘খুব প্রচলিত অভিযোগ। হয় না যে তা বলব না, কিন্তু এ ক্ষেত্রে আদার অপশন আছে। সিনিয়র অফিসারের কাছে রিপোর্ট করা যাবে, তাঁদের ফোন নম্বরও থানায় দেওয়া আছে। ভুক্তভোগীদের এই সুযোগটা নিতে হবে। একটা পরিস্থিতিকে তো হুট করেই কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নিয়ে আসা যাবে না। পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই কার্যক্রমটা এগিয়ে নিতে হবে।’

দুই মাসে তিন খুন

সর্বশেষ গত দুই মাসে ছিনতাইকারীদের হাতে তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা রাজধানীবাসীকে আরও আতঙ্কিত করেছে। গত সোমবার দয়াগঞ্জ এলাকায় ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে মায়ের কোল থেকে পড়ে মারা যায় ছয় মাস বয়সী আরাফাত। এর মাত্র ১৩ দিন আগে একইভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মারা যান জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ফরহাদ আলম (৪০)। আর গত ৮ অক্টোবর টিকাটুলিতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে তাদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ যায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু তালহা খন্দকারের।

ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গুরুতর যেসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয়, কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে।

ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরার পথে ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১ নম্বরে ছিনতাইয়ের শিকার হন একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তারা। শ্রমিকদের বেতনের ৪০ লাখ টাকা নিয়ে গাড়িতে করে ফিরছিলেন তাঁরা। ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে সেই টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হলেও গত ১৫ দিনে কোনো সুরাহা হয়নি।

বিমানবন্দর খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া গতকাল বলেন, ‘জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, কোনো রিকভারিও নেই।’ কারখানার ব্যবস্থাপক রাসেল হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পর র‍্যাব-পুলিশ সবাই এসেছিল, কিন্তু অগ্রগতি নেই।’

এক বছরের ব্যবধানে দুবার ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বিকাশের পরিবেশক এভারলাস্ট পার্টনারসের কর্মচারীরা। দুই দফায় ছিনতাইকারীরা তাঁদের ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দুটি ঘটনায় মামলা করেছিলেন প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরহাদ নিজাম আহমেদ।

প্রথম আলোকে ফরহাদ বলেন, এক বছর আগে বিমানবন্দর থানায় যে মামলাটি করা হয়েছে, পুলিশ সেই মামলায় আদালতে ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদন’ (অর্থাৎ জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়নি বা টাকা উদ্ধার করা যা

বড় হারে হতবাক আ. লীগ




রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপুল ব্যবধানে হারে হতবাক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা। গতকাল শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের সভাপতিমণ্ডলীর এক বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব নেতাই এই বিষয়ে কথা বলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ভোট কেন কমেছে, বিএনপির ভোট বাড়ার কারণ কী? এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে কোনো নেতা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রংপুরে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে তাতে সব মহলের সাধুবাদ এসেছে। সরকার এমন নির্বাচনই চায়। তবে রংপুরে দলীয় প্রার্থীর এত কম ভোট পাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দেন তিনি।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে কয়েকটি দল গঠন করে জেলায় জেলায় সফর করার পরামর্শ দেন। এসব সফরে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের দুর্নীতি ও অতীতের শাসনের নেতিবাচক দিক প্রচারের নির্দেশনা দেন। এটাকে নির্বাচনী সফর হিসেবে নেওয়ারও পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে ৫ জানুয়ারি দশম সংসদের চার বছর পূর্তি, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান। আর এসব কর্মসূচির মূল বিষয় হবে বিএনপির দুর্নীতি ও হরতাল-অবরোধে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানায়। এর মধ্যে নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডের কারণে নির্বাচনে আইনি জটিলতা হতে পারে বলেও আলোচনা হয়। কারা কারা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন সেটাও দলীয় প্রধানকে অবহিত করেন নেতারা। তবে এই বিষয়ে তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার কথা বলেন দলীয় প্রধান।

এই বৈঠকের অংশ নন, তবে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিগগিরই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই পরিস্থিতিতে দলকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক করা হয়।

সহকারী শিক্ষকদের অনশন চলছে




বেতন স্কেলে বৈষম্য কমানোর দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের আমরণ অনশন চলছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে রয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষক।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। রাতেও শিক্ষকেরা শহীদ মিনারে অবস্থান করেছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের আটটি সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। সংগঠনের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অনশন চালিয়ে যাবেন।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের তেবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আখলাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আগে সহকারী শিক্ষকেরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন পেতেন। কিন্তু এখন সহকারী শিক্ষকেরা তিন ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। এখন প্রধান শিক্ষক পান ১১তম গ্রেড আর সহকারী শিক্ষক পান ১৪তম গ্রেডে বেতনম যা তাঁদের জন্য অপমানজনক ও বৈষম্যমূলক। তিনি বলেন, তাঁরা চান প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁদের বেতনের পার্থক্য যেন ১ গ্রেড হয়।

নেত্রকোনার বারহাট্টার সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ২০ বছর চাকরি করার পর একজন সহকারী শিক্ষক যে বেতন পান, একজন প্রধান শিক্ষক চাকরির শুরুতেই সেই বেতন পান। এর ফলে পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা বৈষম্যের শিকার হন।


বেতন স্কেলে বৈষম্য কমানোর দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর। ছবি: আবদুস সালাম
মহাজোটভুক্ত বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমীন বলেন, ব্যবধান কমানোর জন্য আগে আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তা পূরণ করা হয়নি। এ জন্য আমরণ অনশন ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো উপায় নেই।

শিক্ষক সমাজের অপর এক অংশের সভাপতি তপন কুমার মণ্ডল বলেন, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা অনশন ভাঙবেন না। অনশনে কয়েক হাজার সহকারী শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।

আজ দুপুরে শহীদ মিনার গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক হাজার শিক্ষক সেখানে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে অনশনে অংশ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের অনশনস্থলেই স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা যাবেন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে!




প্রতিষ্ঠিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তুলনামূলক কম প্রতিষ্ঠিত (নতুন) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণে পাঠানোর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে বলেছে সংস্থাটি।

ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন আরও বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সুপারিশের কারণ হিসেবে ইউজিসি বলছে, অপেক্ষাকৃত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক নেই। ফলে সেখানে শিক্ষাক্ষেত্রে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
২০১৬ সালের তথ্য নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ইউজিসি উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারকে সুপারিশ করে। সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়।

দেশে বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪২টি। তবে ৩৭টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে বাকি ৩৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ এবং শিক্ষক ১৩ হাজার ৭২। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ২০।

ইউজিসির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এখন প্রতিনিয়ত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। জামালপুর ও নেত্রকোনায় আরও দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত মানসম্পন্ন পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। দলীয়করণ করতে গিয়ে আরও কম যোগ্য ব্যক্তিরাও শিক্ষক হচ্ছেন। সেগুলোতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকও হাতে গোনা। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পাচ্ছেন না। ইউজিসি মনে করছে, পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রয়েছেন। সেখান থেকে কিছুসংখ্যক শিক্ষককে নতুনগুলোয় পাঠালে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ইউজিসি নতুন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর পদগুলোয় স্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে বলেছে। সংস্থাটি অবসরপ্রাপ্ত অথবা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেষণে শিক্ষকদের ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া অভিজ্ঞ শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন, তাঁদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে ইউজিসি। এ জন্য প্রয়োজনে ইউজিসি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম-ঠিকানার (ডাইরেক্টরি) তালিকা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবে।

ইউজিসি বলছে, জাতীয়, উন্মুক্ত এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক নতুন সরকারি ও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকসংকট বিরাজ করছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানত প্রভাষক ও কনিষ্ঠ শিক্ষক দিয়ে চলছে। এ ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা অধ্যাপকদের বক্তৃতা (লেকচার) ভার্চ্যুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া দেশে দক্ষ শিক্ষক ও গবেষক (ফ্যাকাল্টি) তৈরির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্বমানের একটি ‘গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়’ অতি দ্রুত করা দরকার। যেখানে শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হবে এবং দেশের আর্থসামাজিক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবে। ইউজিসি বলছে, বর্তমানে যেসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তারা প্রয়োজনীয় উচ্চ ডিগ্রিসম্পন্ন জনবল তৈরি করতে পারছে না।

এসব সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রস্তাবগুলো খুব ভালো। তবে নতুন ‘গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়’ করা বেশ জটিল হবে। তার চেয়ে বরং প্রতিষ্ঠিত যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেখানে আলাদা করে গবেষণার জন্য অধ্যাপকেরা থাকবেন, তাঁদের মূল কাজই হবে গবেষণা করা ও করানো। তাঁরা মাঝেমধ্যে ক্লাস নেবেন। আর প্রেষণে পাঠানোর জন্য শিক্ষকদের প্রথমে পছন্দ দিতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যবেক্ষক
দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ৮৬টির কার্যক্রম চলছে। ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায়ই দেখা যায়, বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে না। অনেকগুলোতে আচার্যের নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নেই। প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিরীক্ষিত বার্ষিক হিসাব ইউজিসিতে জমা দেয় না, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কার্যকলাপ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইউজিসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজে ইউজিসির একজন সদস্য বা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের শিক্ষকতাসহ গবেষণা বা প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ একজন শিক্ষাবিদকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা যাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারেন, সে জন্য নীতিমালা করতে বলেছে ইউজিসি।

শনাক্ত হচ্ছে না প্রকৃত অপরাধীরা


  Image result for শনাক্ত হচ্ছে না প্রকৃত অপরাধীরা facebook

ফেসবুক পোস্টে ইসলাম ধর্মের অবমাননা হয়েছে—এই হুজুগ তুলে সাম্প্রদায়িক হামলা শুরু কক্সবাজারের রামু থেকে। ২০১২ সালে ওই সহিংসতার পর প্রায় প্রতিবছর একই কায়দায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত নয়টি বড় হামলা হয়েছে। কোথাও ভুয়া ফেসবুক পরিচিতি (আইডি) থেকে, কোথাও লেখাপড়া না জানা অন্যের আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি ঘটনায়ও পুলিশ প্রকৃত অপরাধী, অর্থাৎ ফেসবুকে উসকানিদাতাকে শনাক্ত করতে পারেনি।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের সক্ষমতা বা সদিচ্ছার অভাবে প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হচ্ছে না। পুলিশের কার্যক্রম তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এই মামলার শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরীহ লোকজনও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) সহেলী ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের মামলা করে পুলিশ মাঝেমধ্যে বেকায়দায় পড়ে যাচ্ছে। প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, ভুয়া আইডি থেকে নেতিবাচক পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। তখন পুলিশের কিছুই করার থাকছে না।

পুলিশের এই ‘অসহায়ত্বের’ সুযোগে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ওপর ভয়ংকর হামলাটি হয় ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ ছিল, রামুর মেরুংলোয়া বড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা উত্তম কুমার বড়ুয়ার ফেসবুক আইডিতে পবিত্র কোরআন অবমাননা করে একটি পোস্ট ট্যাগ করা হয়। তিনি তাতে লাইক দেন মাত্র। রামু থেকে পরে ওই সহিংসতা উখিয়া ও টেকনাফ পর্যন্ত ছড়ায়। নিহত হন একজন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় শত বছরের পুরোনো বৌদ্ধমন্দির ও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের একটি মন্দির। সন্ত্রাসীরা বৌদ্ধপল্লির ৪০টির মতো বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পাঁচ বছর পরও পুলিশ জানতে পারেনি আসলে কে ওই পোস্টে উত্তম কুমার বড়ুয়াকে ট্যাগ করেছিলেন। উত্তমই ওই পোস্টে আসলে লাইক দিয়েছিলেন, নাকি তাঁর আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অন্য কেউ কাজটি করেছিলেন, সে ব্যাপারেও পুলিশ কিছু জানতে পারেনি। ওই সময়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ছিলেন সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সন্দেহভাজন আসামিদের কম্পিউটার, মুঠোফোন সিআইডিতে পাঠিয়েছিল। ওই সব উপাদান থেকে আসামি শনাক্ত করার মতো কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি।

রামুতে ওই হামলা শুরু হলে ওই রাতে বাড়ি ছেড়ে পালান পেশায় দলিল লেখক-সহকারী উত্তম বড়ুয়া। তাঁর স্ত্রী রিটা বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, উত্তমের পরনে সেই রাতে শুধু একটি লুঙ্গি ছিল আর হাতে ছিল মোবাইল ফোন। সেই যে বাড়ি ছাড়লেন, আর ফিরে আসেননি। আজ পর্যন্ত কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার এক বছর পর ২০১৩ সালের ২ নভেম্বর ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করা হয়েছে—এই গুজব ছড়িয়ে
পাবনার আতাইকুলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়। ওই দিন ছিল কালীপূজা। অভিযোগ যার বিরুদ্ধে, সে স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র, বনগ্রাম বাজারের দোকানমালিক বাবলু সাহার একমাত্র ছেলে। ঘটনার দিন তাঁর ছেলে ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে কটূক্তি করেছে অভিযোগে এলাকায় ত্রিমুখী হামলা হয়। একদল বাজারে মিছিল বের করে, একদল পাবনা-নগরবাড়ী সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়, অন্য দলটি লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হিন্দুবাড়ি ও মন্দিরগুলোতে হামলা চালায়।

বাবলু সাহা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। সন্ত্রাসীরা তাঁর বাড়িতে আগুন দেয় এবং দোকান লুট করে। হাইকোর্ট থেকে পরে সরকারকে ৪৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, যদিও ওই টাকা তিনি এখনো পাননি।

এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ওই কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরকে আইনি সহায়তা দেয় আইন ও সালিশ কেন্দ্র। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ যাচাইয়ে পুলিশ ওই কিশোরের কম্পিউটার ও মুঠোফোন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের (বিটিআরসি) কাছে পাঠিয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা না থাকায় পরে ওই কিশোর মামলা থেকে অব্যাহতি পায়।

দুই সংখ্যালঘু তরুণ ইসলাম ধর্ম অবমাননা করেছে—এমন অভিযোগ তুলে কুমিল্লার হোমনায় বাগসিতারামপুরের জেলেপাড়ায় হামলা হয় ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মাদ্রাসার দুজন কট্টরপন্থী শিক্ষক ও ছাত্রদের নিয়ে হামলা চালান। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নঈম মোল্লা তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

নঈম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, শেষ পর্যন্ত জেলেপাড়ার ওই দুই সংখ্যালঘু তরুণ ইসলাম ধর্ম অবমাননা করেছেন—এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

গত বছরের ২৯ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের লেখাপড়া না জানা জেলে রসরাজের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা হয়। রসরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফরেনসিক ল্যাবের প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়, রসরাজ ওই ফেসবুক পোস্ট দেননি। এর আগেই রসরাজকে সাড়ে তিন মাস জেল খাটতে হয়।

নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় করা আট মামলার মধ্যে একটির অভিযোগপত্র গত ১১ ডিসেম্বর আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। তাতে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু ফেসবুকে কে ওই ধর্মীয় অবমাননার পোস্ট ছড়াল, সে বিষয়ে অভিযোগপত্রে কিছু বলা হয়নি। পুলিশ বলছে, ওই ঘটনায় আইসিটি আইনে একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলার তদন্তে ফেসবুকের পোস্টের বিষয়টি দেখা হচ্ছে। ওই মামলায় রসরাজও আসামি।

 ফরিদপুরের কৃষ্ণ কুমার মালো শুরু থেকেই বলেছেন, তাঁর নামে অন্য কেউ একটি আইডি খুলেছে। তিনি তাঁর প্রকৃত আইডি কোনটি, সে কথাও বারবার জানিয়েছেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভুয়া আইডি থেকে ছবি পোস্ট করে প্রচারের কাজ করেছে দুর্বৃত্তরা আর জেলে যেতে হয়েছে কৃষ্ণ কুমার মালোকে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘বিনা অপরাধে মানুষ সাজা খাটবে কেন? তার বিরুদ্ধে মামলাই বা হবে কেন? যেখানে দেখা যাচ্ছে,

Saturday, December 23, 2017

রংপুরে অন্যতম সেরা নির্বাচন: ইডব্লিউজি




রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা বলে উল্লেখ করেছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। দেশের ২৮টি সংগঠন নিয়ে গঠিত এই সংস্থাটি নির্বাচন সম্পর্কে তাদের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেছে।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজি ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রাথমিক বক্তব্য তুলে ধরে। রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডের ২৬টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে সংস্থাটি।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য। ভোটাররা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সুশৃঙ্খলভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।

ভোট শুরুর সময়, ভোট গ্রহণ কার্যক্রম, ভোট সমাপ্তি, গণনাসহ কেন্দ্রের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ছিল ৭০ শতাংশ। পর্যবেক্ষকেরা কোনো অনিয়ম দেখতে পাননি এবং ভোটাররা ইভিএম ব্যবহারে আগ্রহী ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্টকে ঢুকতে না দেওয়া বা কেন্দ্র থেকে কোনো এজেন্টকে বের করে দেওয়ার কোনো ঘটনা পর্যবেক্ষকদের চোখে পড়েনি। দুটি কেন্দ্র বাদে পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকা ২৪টি কেন্দ্রেই ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংস্থাটির পরিচালক আবদুল আলীম। আরও উপস্থিত ছিলেন ইডব্লিউজির সদস্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, মো. আবদুল আউয়াল ও হারুন-অর-রশীদ।

বিদায়, দেশি ইলেকট্রনিক শিল্পের পথিকৃৎ





কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা খ্যাতি বা স্বীকৃতির পেছনে ছোটেন না। প্রত্যাশা করেন না প্রতিদান কিংবা স্তুতির। এড়িয়ে চলেন প্রচার। নীরবে-নিভৃতে করে যান নিজের কাজ। যা একসময় শুধু কাজ থাকে না, হয়ে ওঠে মহৎ সেবা। যাঁর আলোয় আলোকিত হয় মানুষ, দেশ ও জাতি। তেমনি একজন মানুষ ছিলেন আলহাজ এস এম নজরুল ইসলাম। ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ১৭ ডিসেম্বর রোববার রাতে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনশিল্পের এই পথিকৃৎ।

জন্ম ১৯২৪ সালে। টাঙ্গাইলের গোসাই জোয়াইর গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী। তিনিও বাবার সঙ্গে যোগ দেন ব্যবসায়। তখন আসামের সঙ্গে নৌপথে ব্যাপক বাণিজ্য হতো বাংলাদেশের। তাঁরা আসামের সঙ্গে ব্যবসা করতেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু করেন পৃথক ব্যবসা। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রেজভী অ্যান্ড ব্রাদার্স, সংক্ষেপে আরবি গ্রুপ। রেজভী তাঁর বড় ছেলে। পাঁচ ছেলে আর দুই মেয়ের পিতা তিনি। যে ব্যবসাতেই হাত দিয়েছেন, সফলতা পেয়েছেন সেখানেই। সৎ, নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী হিসেবে সব মহলে পেয়েছেন পরিচিতি।

ব্যবসা তত দিনে এই পরিবারের ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয়েছে। বড় ছেলে এস এম নূরুল আলম রেজভী, মেজো এস এম শামসুল আলম, সেজো এস এম আশরাফুল আলম, চতুর্থ এস এম মাহবুবুল আলম এবং ছোট ছেলে এস এম রেজাউল আলম সবাই যোগ দেন বাবার সঙ্গে। নজরুল ইসলামের কিঞ্চিৎ ইচ্ছে ছিল, সন্তানেরা বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করে ভালো চাকরিবাকরি করবেন। কিন্তু ছেলেরা কেউ বিদেশে পড়তে যাবেন না, যা করার দেশেই করবেন।

অবশ্য ছেলেদের এই বেঁকে বসার আরেকটা বড় কারণ ছিল। বাংলাদেশ সম্পর্কে বাইরের দেশগুলোতে নেগেটিভ ধারণা ছিল। এই নেগেটিভ ধারণাকে পজিটিভে রূপান্তরের একটা জেদ ছিল তাঁদের মনে। ছেলেরা বলতেন, এমন একটা কিছু করব, যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়। তাই সবাই যখন প্রচলিত ধ্যানধারণা নিয়ে এগোচ্ছিল, তাঁরা হাঁটলেন অন্য পথে। দেখলেন, প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। দূরদর্শী, সাহসী ও সুদূরপ্রসারী একটা উদ্যোগ নিলেন তাঁরা।

ছেলেদের নিয়ে বসে নজরুল ইসলাম ঠিক করলেন ব্র্যান্ডের নাম। পারিবারিক বৈঠকে বেশ কিছু নাম উত্থাপিত হলো। বেশি ভোট পেল ওয়ালটন। দ্বিতীয় হলো মার্সেল। যে কারণে প্রথম দিকে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের নামেই শুরু হয় তাঁদের ইলেকট্রনিক ব্যবসা। যাতে বিশাল ভূমিকা ছিল তাঁর মেধাবী সন্তানদের।

ইলেকট্রনিক পণ্যের বেচাকেনায় দেখলেন সফলতার মুখ। ব্যবসার উন্নতি তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু দেশের এই খাত তখন শতভাগ আমদানিনির্ভর। জাহাজ বোঝাই করে মিলিয়ন ডলারের পণ্য আসে জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন ও তাইওয়ান থেকে। স্বপ্ন দেখলেন, এ রকম জাহাজ বোঝাই করে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ইলেকট্রনিক পণ্য যাবে বিদেশে। যদিও সে সময় এমন স্বপ্ন দুঃসাধ্যই ছিল। অতিরিক্ত স্বপ্নবানেরাই এমন দিনের প্রত্যাশা করতেন। তত দিনে ছেলেরা হয়ে উঠেছে আরও পরিপক্ব। ব্যবসার হাল ছেলেদের হাতেই। আবার বসলেন ছেলেদের নিয়ে।

আরেকটি পারিবারিক বৈঠকে ঠিক হলো আরবি গ্রুপ দেশেই ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য তৈরি করবে। যদিও তারও অনেক আগেই গ্রাহকপ্রিয়তা পায় তাঁদের ব্র্যান্ড ওয়ালটন। এখানে একটি বিষয় বলে রাখি, অনেকেই মনে করেন, ওয়ালটন বিদেশি ব্র্যান্ড। এটি আসলে কোনো বিদেশি ব্র্যান্ড নয়, পারিবারিক বৈঠক থেকেই ঠিক হয়েছিল ওয়ালটন নামটি।

২০০৬ সাল। গাজীপুরের চন্দ্রায় জায়গা কিনলেন। ব্যাংক লোন নিয়ে শুরু করলেন কারখানার ভবন নির্মাণের কাজ। কিন্তু ওই ব্যাংককে কিছু লোক বোঝাতে সক্ষম হলো এ ধরনের কারখানা বাংলাদেশে সফলতা পাবে না। ওয়ালটন ডুববে, ব্যাংকের টাকা মার যাবে। ব্যাংক চাপ দিল টাকা ফেরত দিতে। জমিজমা, গয়নাসহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে পরিশোধ করা হলো ব্যাংকের টাকা। কষ্টেসৃষ্টে নিজেদের টাকাতেই এগিয়ে চলল কারখানার কাজ।

২০০৮ সালে উৎপাদনে গেল ফ্রিজ তৈরির কারখানা। প্রথম লটে তৈরি হলো ১ হাজার ৭০০ ফ্রিজ। কিন্তু বিধিবাম, কারিগরি ত্রুটি দেখা দিল তাতে। মার্কেট থেকে সব ফ্রিজ তুলে নেওয়া হলো। ভয় না পেয়ে ত্রুটি সারিয়ে উদ্যোক্তারা শুরু করলেন নতুন উদ্যমে। সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের পণ্য এবং সেবা দিয়ে জয় করে নিলেন গ্রাহকের আস্থা। পর্যায়ক্রমে শুরু করলেন টেলিভিশন, মোটরসাইকেল এবং এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন প্ল্যান্ট। সবকিছুতেই ওয়ালটন পাইওনিয়ার।

এরই মধ্যে দেশীয় পণ্যের একটি ক্রেজ তৈরি হয়ে গেল। আগে যেখানে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কথাটাকে অবহেলার চোখে দেখা হতো, একসময় সেটিই হয়ে ওঠে সম্মানের এক স্লোগান। ওয়ালটন পণ্যের উচ্চমান গ্রাহকদের আশাবাদী করে তুলল। শুরু হলো একই গ্রুপের আরেক ব্র্যান্ড মার্সেলের পথচলা। আরবি গ্রুপ নাম বদলে হয়ে গেল ওয়ালটন গ্রুপ।
এরপর এল স্বপ্নপূরণের ক্ষণ। মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে শুরু হলো ওয়ালটন পণ্যের রপ্তানি। বর্তমানে কমবেশি ২০টি দেশে যাচ্ছে ওয়ালটন পণ্য। মেড ইন বাংলাদেশ লেখাটি এখন বিশ্বের মানুষের কাছে সম্মান আদায় করে নিতে সক্ষম হচ্ছে। এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে বিভিন্ন হোম, কিচেন ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স। ‘সময় এখন বাংলাদেশের’ স্লোগান নিয়ে অতি সম্প্রতি শুরু হয়েছে দেশের প্রথম মোবাইল ফোনের কারখানা। শিগগিরই ল্যাপটপ উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন। রয়েছে আরও কিছু পরিকল্পনা।
এরই মধ্যে ওয়ালটন কারখানা কমপ্লেক্স হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন ও গবেষণাগার। বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা কারখানা রূপ নিয়েছে বাংলাদেশি প্রযুক্তির সুনিপুণ আধারে। সরাসরি প্রায় ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তৈরি হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি।
বর্তমানে বাংলাদেশে শিল্পায়নের মডেল হয়ে উঠেছে ওয়ালটন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়েছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ ওয়ালটনের উদ্যোগকে অভিহিত করেছেন আসল শিল্প হিসেবে। আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে ওয়ালটনের সাকসেস স্টোরি পড়ানো হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের উদাহরণ হিসেবে। আগে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবতেন। এখন তাঁরা স্বপ্ন দেখেন ওয়ালটনে কাজ করার।
প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনে ওয়ালটনের এই অগ্রযাত্র

Wikipedia

Search results

Popular Posts